যুবদল নেতার উপর গুলির ঘটনার রহস্য উদঘাটন হওয়ার আগেই আবারও গুলাগুলি আহত ৩ নিহত ১
মোঃখলিলুর রহমান খলিলঃব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে সকল ধর্মের, সকল দলের সর্বশ্রেণীর মানুষের সহাবস্থানের উপজেলা। বিগত দেড় বছরে নষ্ট হয়েছে নবীনগরের শান্তি শৃঙ্খলা। চরমভাবে অবনতি হয়েছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। গত ২৪ অক্টোবর শুক্রবার নবীনগর উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মফিজুর রহমান মুকুলের উপর গুলির ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে আবারও ভয়াবহ গুলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। ১লা নভেম্বর শনিবার রাত আনুমানিক আটটায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বড়িকান্দি আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের দুই দফা পাল্টাপাল্টি হামলায় উভয় পক্ষের চারজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ চারজনকে রাতেই ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক । এ ঘটনার পর প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করেন।
হামলার খবর পেয়ে রাতেই জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নবীনগর সার্কেল) পিয়াস বসাক ও নবীনগর থানার ওসি শাহীনূর ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যান।
নবীনগর উপজেলার বড়িকান্দি ইউনিয়নের
বড়িকান্দি গণি শাহ মাজার বাজারে স্থানীয় একটি হোটেলে রাত আনুমানিক আটটার দিকে এলাকার কুখ্যাত ডাকাত মোন্নাফ মিয়া ওরফে মনেক ডাকাতের ছেলে শিপন মিয়া (৩০) আড্ডারত অবস্থায় একদল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী হোটেলটিতে গুলি করতে থাকে।
সেসময় শিপন মিয়া (৩০) পিতা মন্নেক ডাকাত নূরজাহানপুর এবং হোটেলের দুই কর্মচারী ইয়াছিন (২০) পিতা সফিক গ্রাম আলমনগর, ও নূর আলম (১৮) গুলিবিদ্ধ হয়।
গুলির শব্দে বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গুলি করার পর সন্ত্রাসীরা নির্বিঘ্নে ফ্লিমি স্টাইলে স্থান ত্যাগ করেন।
মনেক ডাকাতের ছেলে শিপনের গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর বাড়ি পার্শ্ববর্তী গ্রাম নূরজাহানপুরে ছড়িয়ে পড়লে, মনেকের নেতৃত্বে বিক্ষুব্ধ লোকজন সশস্ত্র অবস্থায় গণিশাহ মাজারের অদূরে তালতলায় গিয়ে স্থানীয় এমরান হোসেন মাস্টারের অফিসে হামলা চালায়। হামলায় এমরান মাষ্টার(৩৭) গুলিবিদ্ধ হন।এমরান মাষ্টার গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইসচেয়ারম্যান পদে বাল্ব প্রতিকে নির্বাচন করেছিলেন এবং তিনি শ্যামগ্রাম মোহিনী কিশোর স্কুল এন্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক।
এমরান মাস্টার ঢাকায় কর্মরত পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) বিল্লাল হোসেনের ছোট ভাই।
সশস্ত্র লোকজন এমরান মাষ্টারকে গুলি করার পরপর থোল্লাকান্দি গ্রামে হামলা চালিয়ে একাধিক বাড়িঘর ভাঙচুর করে।
এদিকে গুলিবিদ্ধ চারজনকে রাতেই ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এরমধ্যে মনেক ডাকাতের ছেলে শিপন মিয়া নিহত হয়েছেন। হোটেল কর্মচারী ইয়াছিনের মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন।
এলাকার একাধিক সূত্র জানয় আধিপত্য নিয়ে থোল্লাকান্দি গ্রামের মিষ্টারের ছেলে আরাফাতের নেতৃত্বে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা মনেক ডাকাতের ছেলে শিপনকে শনিবার রাতে গুলি করে।আর এই আরাফাত থোল্লাকান্দি গ্রামের এমরান হোসেন মাস্টারের বংশের লোক। আর এ কারণেই মনেক ডাকাতের ছেলে শিপন গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর বিক্ষুব্ধ মনেক ডাকাত এমরান মাস্টারের অফিসে গিয়ে হামলা চালিয়ে তাকে গুলি করে।
পাল্টাপাল্টি এ গুলাগুলি ঘটনার পর পুনরায় সংঘর্ষ ও হামলার ভয়ে পুরো এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
গুলাগুলির পর ঘটনাস্থলে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে,রাতভর অভিযান চলানো হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শনিবার রাত থেকে এলাকায় পুলিশ, র্যাব ও সেনা সদস্যরা টহল দিচ্ছেন বলে অবগত করেছেন নবীনগর সার্কেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পিয়াস বসাক।