জনপ্রতিনিধি শূন্য ও জনবল সংকটে নবীনগর পৌরসভা ভোগান্তিতে জনগণ!
মোঃ খলিলুর রহমান খলিলঃব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর পৌরসভা কাগজে কলমে ক শ্রেণির পৌরসভা হলেও সেবার মানে ক শ্রেণির পৌরসভার সুবিধা পাচ্ছেন না নবীনগর পৌরবাসী। ১৬.৯০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা নিয়ে ১৯৯৯ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সংসদ সদস্য মরহুম এডভোকেট আব্দুল লতিফের সময়ে নবীনগর পূর্ব, শ্রীরামপুর ও ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নত্রয়ের অংশ নিয়ে নবীনগর পৌরসভা গঠিত হয়।নবীনগর পৌরসভায় মোট জনসংখ্যা ৬৮ হাজার ২০৪ জন মোট ভোটার ৪৬ হাজার ৫৬ জন, পুুরুষ ভোটার ২২৯১৯ জন,নারী ভোটার ২৩১৩৫ জন ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ২ জন।স্বাক্ষরতার হার ৭৪.৯৪ জন।
২০২৪ সালের ১৯ শে আগস্ট দেশের ৩২৩ টি পৌরসভা পরিষদ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ইউনূস সরকার বিলুপ্ত ঘোষণা করে, সে সময় নবীনগর পৌরসভাও বিলুপ্ত হয়ে যায়। পৌরসভা বিলুপ্ত হওয়ার পর থেকেই জন ভোগান্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছে। ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের দায়িত্ব দেওয়া হয় উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের, ১ ও ২ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের দায়িত্ব পালন করছেন সমাজ সেবা কর্মকর্তা, ৩ নং ওয়ার্ডের দায়িত্বে আছেন নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টি ইচ ও),৪ নং ওয়ার্ডের দায়িত্বে আছেন নবীনগর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি),৫ নং ওয়ার্ডে উপজেলা প্রকৌশলী, ৬ ও ৭ নং ওয়ার্ডে যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডে উপজেলা শিক্ষা অফিসার কাউন্সিলরের দায়িত্ব পালন করছেন।
মেয়র পদে প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করেন পদাধিকার বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
জনগণ সাধারণত ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের মাধ্যমে অতিসহজে বয়স্কভাতা,বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য আবেদন করতে পারতো।এখন ইচ্ছে করলেই সমাজের পিছিয়ে পড়া এই জনগোষ্ঠী অতি সহজে ভাতার সুবিধাগুলো আদায় করতে কাঠকোর পোহাতে হয় । দায়িত্বপ্রাপ্ত ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের অনেকের অফিস তিনতলায় ও দুতলায় হওয়ায় বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের সেবা নিতে কষ্ট হয়।তাছাড়া অফিসাররা ওয়ার্ডের জনগনের সাথে পরিচিত না হওয়ায়,নাগরিক সনদের ক্ষেত্রে নাগরিকদের বহু কাঠ কোর পোহাতে হয়।
নবীনগর পৌরসভায় অপরিকল্পিত ভাবে নগরায়ন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হওয়ায় যানজট মহা আকার ধারণ করেছেন ও পানি বন্দি হয়ে পড়ে অল্প বৃষ্টিতে অনেক ওয়ার্ডের জনগন।
নবীনগর পৌর এলাকায় জমি রেজিস্ট্রার করতে নতুন করে সরকার প্রতি শতকে ১০ হাজার করে উৎস কর নামে টাকা আদায় করছে,সরেজমিনে দেখা যায় পৌরসভার কোন কোন এলাকায় ত্রিশ শতক জমির দাম বা মূল্য তিনলাখ রেজিস্ট্রার বা দলিল খরচ ও উৎস কর সহ যাবতীয় খরচ সহ তিন লাখ।
পৌরসভার মধ্যে পাইপলাইনে পানি সরবরাহের কাজ কোটি টাকা ব্যয়ে শেষ হলেও পাচ্ছেন না পানির সুবিধা, শুষ্ক মৌসুমে পানি উঠে না নলকূপ দিয়ে।
নবীনগর পৌর এলাকার পল্লী বিদ্যুতায়ন লাইন একটি থাকার কথা থাকলেও পল্লী বিদ্যুতায়ন লাইন হয়েছে চারটি, সকল প্রকার ট্যাক্স সমভাবে প্রদান করলেও সেবা সমভাবে বন্টন হয়না পৌরসভায়।
সকল ওয়ার্ডে সমহারে দেওয়া হয়নি পৌরসভার নিয়ন্ত্রণে অন্ধকার দূর করতে বিদ্যুৎ লাইন।
২০১০ সালে সরকার সকল পৌরসভায় জন্মনিবন্ধন অনলাইন করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করলে মেয়র মাইনুউদ্দিন মাইনুর আমলে নবীনগর পৌরসভার যাবতীয় হাতে লেখা জন্মনিবনন্ধন অনলাইন করার কাজ দেন কলেজ রোডের ফকরুল কম্পিউটারকে। হাতে লেখা জন্মনিবন্ধন সঠিক থাকলেও ফকরুল কম্পিউটার কাজ সহজ করতে অনলাইন করার সময় ইচ্ছে করে অনেক ভুল করে।
নবীনগর পৌর এলাকার ১ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা প্রতিবেদক খলিলুর রহমানের হাতে লেখা জন্মনিবন্ধন সঠিক ছিলো অথচ পৌরসভার সার্ভার থেকে অনলাইন সরবরাহ করতে গিয়ে দেখা যায় মোহাম্মদ এর জায়গায় মোহাম্মদ নেই,এখন নাগরিকদের প্রশ্ন অফলাইন থেকে অনলাইন পৌরসভা করেছেন এখন ভুল হলে পৌরসভা করেছেন অথচ এই ভুলের জন্য অতিরিক্ত টাকা খরচ করে সংশোধনের জন্য আবেদন করতে হয় পৌরসভার নাগরিকদের।উদর পিন্ডি যেন বদুর ঘাড়ে!
ময়লা আর্জনার অব্যবস্থাপনা, তদারকির অভাবে রাস্তা হয়ে যায় স্থায়ী পার্কিং।
নবীনগর পৌরসভা জনবল সংকটেও ভোগছে।নবীনগর পৌরসভার সচিবের বদলি জনিত কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ পদটি শূন্য।
হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন বলেন,” পৌরসভার বস্তুী উন্নয়ন কর্মকর্তা, উপসহকারী প্রকৌশলী, বিদ্যুৎ ইঞ্জিনিয়ার, সিভিল ইঞ্জিনিয়ার,হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা, সহকারী কর নির্ধারক, কর আদায়কারী,সহকারী লাইন্সেস পরিদর্শক,পরিচ্ছন্ন সুপার ভাইজার সহ ডজন খানেক পদ শূন্য রয়েছে।
কর্মকর্তার শূন্য পদ থাকায় পৌরবাসী সেবা সঠিক সময়ে পাচ্ছেন না।
নবীনগর পৌরবাসীর জোড় দাবী সরকার যেন অতি দ্রত পৌরসভার নির্বাচন দিয়ে জনভোগান্তি দূর করেন।