শিরোনাম :
মাদক,সন্ত্রাস ও যানযট মুক্ত করতে নবীনগরের প্রশাসন ও জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন — এমপি এডভোকেট আব্দুল মান্নান জনপ্রতিনিধি শূন্য ও জনবল সংকটে নবীনগর পৌরসভা ভোগান্তিতে জনগণ! নবীনগরে মাদকাসক্ত ও মাদক ব্যবসায়ীদের আতংকের নাম ওসি মোরশেদুল আলম চৌধুরী মেঘনার নদী ভাঙনের নবীনগর উপজেলার মানচিত্র থেকে বিলীনের পথে পশ্চিম ইউনিয়নের তিন গ্রাম! ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে বিলের দেশীয় মাছ বিলুপ্তের পথে নবীনগরে কৃষক, মাঝি ও জেলেদের শত্রু কচুরিপানা ! রাণীশংকৈলে ভূমি জরিপকারক সমিতির সভাপতি ওয়াকেয়া, সম্পাদক মিলন নবীনগরে রতনপুর ইউনিয়নে অসহায় দুস্ত পরিবারের মাঝে এমপি এডভোকেট আঃ মান্নানের চাল বিতরণ। সমাজসেবায় গ্লোবাল স্টার অ্যাওয়ার্ড সম্মাননা পদক পেলেন, নবীনগরের ওবায়েদ উল্লাহ অবিদ। নবীনগরে এমপি আব্দুল মান্নানের পক্ষে দুঃস্থদের বিনামূল্যে চাল বিতরণ
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:১৮ অপরাহ্ন

মেঘনার নদী ভাঙনের নবীনগর উপজেলার মানচিত্র থেকে বিলীনের পথে পশ্চিম ইউনিয়নের তিন গ্রাম!

প্রতিনিধির নাম / ৭ বার
আপডেট : বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬

মেঘনার নদী ভাঙনের নবীনগর উপজেলার মানচিত্র থেকে বিলীনের পথে পশ্চিম ইউনিয়নের তিন গ্রাম!

মোঃ খলিলুর রহমান খলিলঃ
নদীর এপার ভাঙ্গে ওপার গড়ে এইতো নদীর খেলা, সকাল বেলার ধনীরে তুই ফকির সন্ধ্যা বেলা।
কবিতার চরণটি নবীনগর উপজেলার পশ্চিম ইউনিয়নে এসে যেন চরম সত্য হয়ে প্রমাণিত হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার নবীনগর পশ্চিম ইউনিয়নের তিন গ্রাম চরলাপাং, দড়িলাপাং ও চিত্রি এলাকায় নদীভাঙন যেন এক দীর্ঘস্থায়ী আতঙ্কের নাম। যুগের পর যুগ নদী ভাঙনের ফলে নবীনগরের মানচিত্র থেকে বিলীনের পথে তিনটি গ্রাম।কত শত পরিবারের বছরের পর বছর ধরে মেঘনার ভাঙনের মুখে পড়ে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, রাস্তা ও মানুষের স্বপ্ন একের পর এক বিলীন হয়ে যাচ্ছে নদীগর্ভে। ভাঙনের তীব্রতা বাড়লে এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে চরম উদ্বেগ, আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা।

স্বাধীনতা উত্তর সময়ে অনেক জনপ্রতিনিধি নদী ভাঙ্গন রক্ষায় নবীনগর পশ্চিম ইউনিয়নে বেরীবাধ করার স্বপ্ন দেখালেও কেউ কাগজে কলমে পদক্ষেপ নিয়ে এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন করেননি। নবীনগর পশ্চিম ইউনিয়নের চরলাপাং এক সময় ১২ হাজার লোকের বসবাস থাকলেও এখন মাত্র ৫ হাজার লোকের বসবাস। নদী ভাঙনের কবলে পড়ে সাত হাজার লোক স্বাধীনতা উত্তর সময় থেকে অদ্যাবধি বসতবাড়ি হারিয়েছে।
এক সময় যে বসত ভিটায় কৃষক মাঠে কাজ শেষে গরু নিয়ে বাড়ি ফিরতো, কৃষাণী বাড়িতে কাজকর্ম করে নদীর তীরে সময় কাটাতো সেই বসতভিটা মেঘনার কবলে পড়ে বিলিন হয়ে গিয়েছে।

চরলাপাং এর ন্যায় চিত্রি ও দড়িলাপাং এ একই চিত্র দেখা গিয়ে। কতশত মানুষ তার মাথা গোজার শেষ ঠিকানা হারিয়েছে তার কোন ইয়ত্তা নেই।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, “এই নদীভাঙন কবে শেষ হবে? সারা বছরই কি আমাদের ভাঙন দেখতে হবে? এটার কি কোনো স্থায়ী বাঁধ নেই? আমরা কি একদিন পুরোপুরি পানিতে ভেসে যাব?” এমন প্রশ্ন এখন শুধু কয়েকজনের নয়, পুরো চরলাপাং বাসীর।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তারা একটি স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ (ভেরিবাঁধ) নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন। বিভিন্ন সময়ে জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে আবেদন করা হলেও কার্যকর স্থায়ী উদ্যোগ এখনো দৃশ্যমান নয়। স্থানীয়রা জানান, নির্বাচনের সময় আশ্বাস মিললেও বাস্তবে নদীভাঙন রোধে টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

এলাকাবাসী স্মরণ করিয়ে দেন যে, মাননীয় সংসদ সদস্য ভেরিবাঁধ নির্মাণের বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছিলেন। এখন তাদের প্রশ্ন, “আমরা কি সেই বাঁধ পাব? আর কবে পাব?” তারা দ্রুত প্রকল্প অনুমোদন, জরুরি বরাদ্দ এবং স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরুর দাবি জানান।

সাময়িক বালুর জিও বস্তা দিয়ে অস্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে নদীভাঙন রোধ সম্ভব নয়। প্রয়োজন পরিকল্পিত নদীশাসন, টেকসই বাঁধ নির্মাণ, তীর সংরক্ষণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন।

নবীনগর পশ্চিম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নূর আলম নূরাজ্জম বলেন, এমপি মহোদয় সার্বক্ষণিক তথ্য নিচ্ছেন তিনি বেড়িবাঁধ দেওয়ার বিষয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছেন।

Facebook Comments Box


এ জাতীয় আরো সংবাদ