শিরোনাম :
নবীনগরে কৃষক, মাঝি ও জেলেদের শত্রু কচুরিপানা ! নবীনগরের আহমদ পুরে চারশো বছর ধরে টিকে আছে শৈল্পিক কারুকাজ খচিত মসজিদ নবীনগরে বর্ষার সৌন্দর্য্য বিলুপ্তের পথে শৈশবের স্মৃতি বিবর্ণ হচ্ছে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম! নবীনগরে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালিত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে শ্রেষ্ঠ মৎস্যচাষী পদক পেলেন উদ্যোক্তা মনির হোসেন কলমে সত্য, হৃদয়ে মানবিকতা—এটাই হোক সাংবাদিকতার অঙ্গীকার—প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু নাছের। ভিটিবিশাড়া হজরত খাজা জহিরুল ইসলাম রহঃ এর ০৩দিনব্যাপী ওরশ আগামী শুক্রবার থেকে। নবীনগরের চতরংখোলা’য় জমকালো আয়োজনে মিনি বার ফুটবল টুর্ণামেন্টে ফাইনাল অনুষ্ঠিত। জাতির জনক — শ্যামল বর্মন শিমুল
মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫০ অপরাহ্ন

বিলুপ্তির পথে ২০০ বছরের ঐতিহ্য নৌকা শিল্প

প্রতিনিধির নাম / ১৬৭ বার
আপডেট : মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬

বিলুপ্তির পথে ২০০ বছরের ঐতিহ্য নৌকা শিল্প

মোঃখলিলুর রহমান খলিলঃপ্রাণবন্ধুরে,,,,,
কাষ্ঠ লোহায় পিরিত করে নৌকারে
সাজাইগো পরে
দুইয়ে মিলে যুক্তি করে শুকনাতে থাকবে না
এখন জলের তরে ভাসে পিরিতরে বন্ধু
জলছাড়া সে বাচে না নারে বাচে না
লোক সংগীতের জালাল খার লেখা গানটিকে বাস্তবে রুপ দিয়ে কাঠ ও লোহার মিলনে নৌকা তৈরি করে,নৌকাকে পানিতে ভাসানোর কারিগর হলেন সূত্রধর পাড়ার নৌকা মিস্ত্রিরা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার আলমনগর সূত্র ধর পাড়ার মিস্ত্রিদের নৌকার খ্যাতি দেশব্যাপী।কাঠের তৈরি নৌকার এই শিল্প ২০০বছরের পুরনো। তাদের এই নৌকা তৈরির কর্মকে স্থানীয় ভাষায় বলায় হয় মিস্ত্রর।এই কাঠ মিস্ত্রিরা নিজেরা এতটাই দক্ষ যে তারা একটার পর একটা কাঠ( তক্তা) লোহা দিয়ে জোড়া দিয়ে গোল করে বাতা গলুই পর্যন্ত নিয়ে এসে চমৎকার আকৃতির নৌকা তৈরি করে।হঠাৎ করে যে কেউ দেখলে আশ্চর্য হবে হাতে তৈরি করে কিভাবে। বৃটিশ আমলের আগেও পলাশীর যুদ্ধের পূর্বেও এই গ্রাম থেকে নৌকা তৈরি করে সারাদেশে সরবরাহ করা হতো।পশ্চিম ভঙ্গ,আসাম, আগড়তলা সহ সারাদেশ থেকে নৌকার অর্ডার বা বায়না আসতো।নদীমাতৃক দেশ হওয়ায় গ্রাম
অঞ্চলে যোগাযোগের মাধ্যমে ছিল একমাত্র নৌকা, সূত্রধর পাড়ার নৌকার তাই সারা বছর চাহিদা থাকতো।
আলমনগরে নৌকা তৈরি করার জায়গা ছিল ৫০টির মতো।এই নৌকা তৈরির জায়গাকে স্থানীয় ভাষায় বলা হয় নৌকাখলা।এই খলায় সকাল থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত চলতো আত্রা (হাতুড়ি)বাডালের শব্দ। সনাতন পদ্ধতিতে এই খলায় তৈরি করা হতো সিলেটের ময়ূরপক্ষী,চট্টগ্রামের সাম্পান,নৌকা বাইচের নৌকা,কেড়াই নৌকা, কাঠের লঞ্চ, স্টিমার তৈরি হতো আলমনগরে।তৎকালিন সময়ে কাঠের চাহিদা বেশি ছিল বলে স মিলও ছিল আলমনগরে।
দেশের ২৪ হাজার কিলোমিটার নৌপথ কমে ৬ হাজার কিলোমিটারে এসে পৌঁছেছে।
সেই সাথে সময়ের ব্যবধানে সড়ক পথের যোগাযোগ সহজ হয়েছে।নৌকা শিল্পের উপর মূলত ধাক্কা আসে ২০০০সাল থেকে।দুইশো বছরের শিল্প এখন প্রায় বিলুপ্ত। কালের বিবর্তনে এখন তিনটি খলা রয়েছে। পূর্ব পুরুষের এই পেশাকে আঁকড়ে ধরে আছে গৌরাঙ্গ, দুলাল ও সুবল সূত্র ধর।
তাঁর অন্য কোন কাজে পারদর্শী না হওয়ায় পেশাও পরিবর্তন করতে পারছেন না।মেস্তর বাড়ির বধূরা এক একটি নৌকা তৈরির পর ক্রেতার নিকট বুঝিয়ে দেওয়ার সময় নৌকার মাথায় পান, ধান, দুর্বা ও সিদুর দিয়ে উলুধ্বনি দিতো।
নৌকা পানিতে নামানোর সময় হরেক রকমের গীত গাওয়া হতো।মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজনও নৌকা পানিতে নামানোর সময় সহযোগিতা করতো,ক্রেতারা মিষ্টি নিয়ে আসতো সবাইকে আপ্যায়নের জন্য। এই সকল সংস্কৃতি এখন বিলুপ্ত প্রায়।
গৌরাঙ্গ সূত্র ধর বলেন আমরা সরকারি পৃষ্টপোষকতা পেলে ২০০ বছরের পুরনো ঐতিহ্য বাহী এই পেশায় টিকে থাকতে পারবো।

Facebook Comments Box


এ জাতীয় আরো সংবাদ