শিরোনাম :
নবীনগরে কৃষক, মাঝি ও জেলেদের শত্রু কচুরিপানা ! নবীনগরের আহমদ পুরে চারশো বছর ধরে টিকে আছে শৈল্পিক কারুকাজ খচিত মসজিদ নবীনগরে বর্ষার সৌন্দর্য্য বিলুপ্তের পথে শৈশবের স্মৃতি বিবর্ণ হচ্ছে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম! নবীনগরে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালিত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে শ্রেষ্ঠ মৎস্যচাষী পদক পেলেন উদ্যোক্তা মনির হোসেন কলমে সত্য, হৃদয়ে মানবিকতা—এটাই হোক সাংবাদিকতার অঙ্গীকার—প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু নাছের। ভিটিবিশাড়া হজরত খাজা জহিরুল ইসলাম রহঃ এর ০৩দিনব্যাপী ওরশ আগামী শুক্রবার থেকে। নবীনগরের চতরংখোলা’য় জমকালো আয়োজনে মিনি বার ফুটবল টুর্ণামেন্টে ফাইনাল অনুষ্ঠিত। জাতির জনক — শ্যামল বর্মন শিমুল
সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৪৮ অপরাহ্ন

নরসিংদীতে ৩য় বার ভূমিকম্প, পরিদর্শনে ভূতত্ত্ব বিভাগ

প্রতিনিধির নাম / ২৫২ বার
আপডেট : সোমবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২৫

  • নরসিংদীতে ৩য় বার ভূমিকম্প, পরিদর্শনে ভূতত্ত্ব বিভাগ

৩য় বারের মত মৃদু ভূমিকম্প অনুভুত হয়ছে। রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৩ ম্যাগনিটিউড। শনিবার (২২ নভেম্বর) সন্ধা ৬টা ৬মিনিটে এ ভূমিকম্প হয়।

এর পূর্বে সকাল ১০ টা ৩৬ মিনিটে ২য় বার ভূমিকম্পটি হয়। যার উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর পলাশ উপজেলার পলাশে। রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৩ ম্যাগনিটিউড। এই ভূমিকম্পটিও গত শুক্রবারের কম্পনটির সমান গভীরতায় সংঘটিত হয়েছে। এর আগে শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে প্রথম বার ২য় বার ভূমিকম্পটি হয়। যার উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর মাধবদীতে। রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭ ম্যাগনিটিউড।

এদিকে ভূমিকম্পকে কেন্দ্র করে শনিবার (২২ নভেম্বর) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভূতত্ত্ব বিভাগের অনারারি অধ্যাপক ড. আ.স.ম উবাইদুল্লাহ ৬ সদস্যের একটি টিম নিয়ে নরসিংদীতে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাগুলো পরিদর্শনে এসে তিনি জানান, আমরা এখন ভূমিকম্পের উপাত্ত সংগ্রহ করতেছি। এই ভূমিকম্পের ফলে পৃষ্ঠের মধ্যে কি কি নির্দশন আছে, যেগুলো ভূমিকম্পের সাথে জড়িত, আমরা তা পর্যবেক্ষণ করছি। যে ফাটলগুলো তৈরী হয়েছে, এগুলো ভূমিকম্পের কারণে অথবা কম্পণের ফলে। এখানকার ফাটলগুলো পরিদর্শন করে তা মাপা হচ্ছে। এগুলোর কি অবস্থা তা পর্যবেক্ষণ করছি। পরে সবকিছু সমন্বয় করে আমরা দেখবো ভূমিকম্প কেন হয়েছে। এছাড়া কি কি ক্ষতি হয়েছে এবং এখানে ইনটেনসিটি কত হইতে পারে। অর্থাৎ ভূমিকম্পের তীব্রতা ও ক্ষয়ক্ষতি আমরা ইনটেনসিটি দিয়ে প্রকাশ করি। কম্পনের তীব্রতা কতটুকু এগুলো আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। পরে বিস্তারিত বলা যাবে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রে প্রফেশনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট নিজাম উদ্দিন আহমেদ জানান, প্রাথমিকভাবে তাদের ওয়েবসাইটে মৃদু মাত্রার এই ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকার ২৬ কিলোমিটার দূরে নরসিংদীর পলাশে। তবে এ ভূমিকম্পে নতুন করে কোন ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে ঘোড়াশাল সারকারখানা এবং ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র এখনো চালু করা যায়নি।

এদিকে গত শুক্রবারের ভূমিকম্পে নরসিংদী জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কমবেশী দেড়শতাধিক কাঁচা, আধাপাকা ও বহুতল ভবনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে সচেয়ে বেশী ভবনে ফাটল ধরে পলাশ উপজেলায়। পলাশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আবুবক্কর সিদ্দিকী জানান, উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এলাকায় ৩০টি ভবনের আংশিক ক্ষতি হয়েছে। ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বিস্তারিত জানার জন্য কন্ট্রল চালু করা হয়েছে।

এব্যাপারে নরসিংদী জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন জানান, ভূমিকম্পে নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে প্রাথমিকভাবে ২৫ হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়েছে। তবে আহতদের ব্যাপারে বিস্তারিত জানার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে। জেলায় প্রায় শতাধিক ঘরবাড়ীর আংশিক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। প্রায় শতাধিক লোক আহত হয়েছে। তবে গুরুতর আহতের সংখ্যা কম। ভূমিকম্পের জন্য বন্ধ থাকা ঘোড়াশাল সারকারখানা এবং ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র এখনো চালু করা হয়নি।

এর আগে শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটের ভয়াবহ ভূমিকম্পে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ভবন থেকে তাড়াহুড়ো করে নামার সময় অন্তত শতাধিক নারী-পুরুষ ও শিশু আহত হয়েছে। এই ঘটনায় পিতা-পুত্রসহ মোট পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। ইতিমধ্যেই সকলের দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, সরকারী-বেসরকারী অন্তত শতাধিক ভবন ও বাড়ি-ঘরে ফাটল দেখা দিয়েছে ভূমিকম্পের ফলে। বিভিন্ন স্থানে মাটি ফেলে দু’ভাগ হয়ে গেছে। সকল উপজেলা ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কর্মকর্তারা এসব ক্ষতি নিরুপনে কাজ করে যাচ্ছে।

Facebook Comments Box


এ জাতীয় আরো সংবাদ