শিরোনাম :
রাণীশংকৈলে ভূমি জরিপকারক সমিতির সভাপতি ওয়াকেয়া, সম্পাদক মিলন নবীনগরে রতনপুর ইউনিয়নে অসহায় দুস্ত পরিবারের মাঝে এমপি এডভোকেট আঃ মান্নানের চাল বিতরণ। সমাজসেবায় গ্লোবাল স্টার অ্যাওয়ার্ড সম্মাননা পদক পেলেন, নবীনগরের ওবায়েদ উল্লাহ অবিদ। নবীনগরে এমপি আব্দুল মান্নানের পক্ষে দুঃস্থদের বিনামূল্যে চাল বিতরণ জগৎ সংসার- বিন্দু পলাশ রামু উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত সেনবাগ পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড, দ্রুত সমাধানের দাবি বাসিন্দাদের সেনবাগে আইন-শৃঙ্খলা উন্নয়নে সক্রিয় পুলিশ, নেতৃত্বে ওসি আবদুর রহিম ২৮তম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে শ্রীশ্রী লোকনাথ ধামে ১৫ দিনব্যাপী তারকব্রহ্ম মহানাম যজ্ঞানুষ্ঠান ও নামযজ্ঞ মহোৎসব সড়ক দুর্ঘটনায় আরেক প্রাণহানি, কবিরহাটে নিহত ৬০ বছরের কৃষক
সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:১৭ অপরাহ্ন

আমার সেই চিরচেনা আলম নগর–লেখক সফিকুল ইসলাম সফিক

প্রতিনিধির নাম / ১৬৭ বার
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬

  1. আমার সেই চিরচেনা আলম নগর।লেখক ও রাজনীতিবিদ সফিকুল ইসলামের ফেইসবুক প্রোফাইল থেকে সংগ্রহ করা
    ************************
    গ্রামের কাদামাটি ও ধূলো গায়ে মেখে বড় হয়েছি। এখনো সাহেবী পোশাকের ভেতর থেকে সে মাটির গন্ধ বেরিয়ে আসে।
    গ্রামের পাশে ভাটা নদী, বিশাল ফসলি মাঠ ও খাল বিলের সাথে মিতালি করে কখন যে জৈষ্ঠ্যতার কাঠগড়ায় দাড়িয়েছি? সেটা বেমালুম ভুলেই গেছি।
    দীর্ঘদিন কর্মের তাগিদে বাহিরে সময় দিয়েছি । গ্রামের ভেতরের প্রতিচ্ছবিটা দেখার সৌভাগ্য হয়নি। যে কোন কারণে প্রায় দুবছর যাবৎ গ্রামেই বেশী সময় কাটাই। যখন কার্পেটিং রাস্তায় জুতো পায়ে হাটি, দুপাশের ইট পাথরের অট্টালিকায় আমার সেই আলম নগর’কে খুঁজি কিন্তু পাই না। সবই যেন অচেনা লাগে।
    চার চালা টিনের ঘর বড়বেশী চোখে পড়ে না। কুঁড়ে ঘর একদমই বিলপ্ত। গ্রামের বুক চিঁড়ে মেঠোপথ, ছোট ছোট খাল, বাড়ীর পাশে কচুরীপানা ভর্তি গর্ত ও ঝোপঝাড় কোথায় যেন হারিয়ে গেছে। যে পুকুর জলে তপ্ত দুপুরে মানুষ সঙ্গবদ্ধভাবে গোসল করত। মা চাচিরা মাটির কলসি কাঙ্কে পানীয় জল নিয়ে বাড়ি ফিরত। সে পুকুরগুলোর বেশ কয়েকটি ভরাট করে ফেলেছে। এখন পুকুর জলে কেউ গোসল করে না।
    ভাটা নদীতে সত্যি এখন ভাটা লেগেছে। তলানিতে সামান্য জল তাও কচুরি পানার নীচে পচা দুর্গন্ধময়। ভরা বর্ষায় নদীতে জল থাকে না। কিশোর যুবক মগডাল থেকে লাফিয়ে পড়ে স্রোতের প্রতিকূলে সাতার কাটে না। ঘাটে বাঁধা সেই ছোটছোট ডিঙ্গি নৌকা নেই। ভরা বর্ষায় নৌকা যোগে কলের গান ভাজিয়ে বরযাত্রা।
    পাটগাছের পচা গন্ধ, রাস্তার দুধারে সারিবাঁধা পাটখড়ি চোখে পড়ে না। কার্তিকে কাদামাটির গন্ধ আজো নাকে লাগে।
    নির্জন বাগান বাড়িতে ছেলে মেয়েদের ডাঙগুলি, হা-ডু-ডু, মার্বেল খেলা। লাঠিম ঘুরানো, কাঁচা জাম্বুরা আর খড়ের পুটলিতে ফুটবল খেলা, সবই যেন কল্পকাহিনি। আকাশে উড়ন্ত ঘুড়ির ভু ভু শব্দ শোনা যায় না।
    মুরব্বিরা দিনান্তের কাজ সেরে উঠানে পাটি বিছিয়ে তাস খেলে না। মা চাচিরা একগাল পান মুখে দিয়ে ঢেঁকিতে ছন্দ মিলিয়ে তালে তালে পা নাচায় না। কোথায় হারিয়ে গেল সেই মেলবন্ধন? বিলের ঘোলা জ্বলে মাছ ধরে, শরীরে ব্যাঙ্গাছি ধরলে সরিষার তেল মেখে ঢেকে ফেলা।
    বাড়িতে মেহমান এসেছে, ঘরে ভাল কিছু নেই। দৌড়ে পাশের বাড়ি যেয়ে একটি ডিম, এক শিশি তেল কর্জ চায় না।
    মাঠের ফসলি জমিগুলো এখন অনাবাদি পড়ে আছে। মাঠ জুড়ে গরু ছাগলের পাল একেবারেই নেই। আগাছা জন্মে বিষধর সাপ আর শিয়ালের অভয়ারণ্যে পরিনত হয়েছে। আমার বাল্যসখা ফসলি মাঠটিও আজ তার রূপ যৌবন হারিয়েছে।
    এখন পাড়ায় পাড়ায় হাট বাজার চায়ের দোকান। আবাল বৃদ্ধ বনিতারা আড্ডা মারে আর ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশ্ব রাজনৈতিক দর্শণ নিয়ে আলোচনা করে। বাল্যকালের খেলার সাথীরা যখন আপনি তুমি সম্বোধন করে তখন আরো অচেনা লাগে। তুই ডাকার লোকগুলোও বদলে গেল। বদলালো না কেবল গ্রামের নামটা।
    আর কি ফিরে পাব সেই মধুময় দিনগুলো? আহ কি প্রশান্তির আবহ ছিল মনে। সন্ধ্যা হলেই গৃহস্থ বাড়ীতে পান তামাকের পসরা বসত। এখনত দাওয়াত দিলেও কেউ কারো বাড়ীতে সহজে যেতে চায় না। আমরা কেমন যেন একঘরে হয়ে গেছি।
    এই মন বারেবার সেই চিরচেনা আলমনগরকে ফিরে পেতে চায়।
Facebook Comments Box


এ জাতীয় আরো সংবাদ