বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
সর্বপ্রথম আপনাদের প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। মসজিদ পরিচালনা, দ্বীনের খেদমত এবং সমাজে ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় আপনাদের নিরলস প্রচেষ্টা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।
তবে নবীনগর উপজেলার একজন সচেতন মুসল্লি ও নাগরিক হিসেবে কিছু বিষয় আপনাদের সদয় বিবেচনার জন্য তুলে ধরছি।
দীর্ঘদিন ধরে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, জুমার দিনসহ বিভিন্ন সময়ে মসজিদের মাইকে দীর্ঘ সময় ধরে টাকা, চাল, ডিম, হাঁস-মুরগি ও অন্যান্য অনুদান সংগ্রহের ঘোষণা দেওয়া হয়। মসজিদের উন্নয়ন ও পরিচালনার জন্য অর্থ সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তা আমরা উপলব্ধি করি এবং এ মহৎ উদ্যোগকে সম্মান করি। কিন্তু একই সময়ে আশপাশের একাধিক মসজিদ থেকে দীর্ঘক্ষণ মাইকিংয়ের কারণে শব্দদূষণের সৃষ্টি হচ্ছে।
এর ফলে—
অসুস্থ, বয়স্ক ও বিশ্রামরত মানুষের কষ্ট হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে।
শিশুদের স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে।
কর্মজীবী মানুষের কাজকর্মে অসুবিধা সৃষ্টি হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে জনসাধারণের মাঝে বিরক্তির সৃষ্টি হচ্ছে।
এছাড়াও অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করা যায় যে, কখনো কখনো মসজিদের মাইক ব্যবহার করে ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক পণ্য যেমন মাছ, মুরগি, হাঁস, ডিম কিংবা অন্যান্য পণ্য বিক্রয়ের ঘোষণা প্রচার করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে এসব ঘোষণা সম্মানিত ইমাম সাহেবের মাধ্যমেও প্রচার করা হয়ে থাকে।
মসজিদ আল্লাহর ঘর। এর পবিত্রতা, মর্যাদা ও সম্মান রক্ষা করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। তাই মসজিদের মাইক মূলত নামাজ, ধর্মীয় শিক্ষা, ইসলামী দাওয়াত, জনস্বার্থে জরুরি ঘোষণা এবং সমাজকল্যাণমূলক প্রয়োজনীয় বিষয়ে সীমাবদ্ধ রাখা অধিকতর সমীচীন বলে আমরা মনে করি।
আমাদের বিনীত প্রস্তাব:
১। অনুদান সংগ্রহের ঘোষণা সংক্ষিপ্ত ও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা।
২। দানবাক্স, মোবাইল ব্যাংকিং বা স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে বিকল্পভাবে অনুদান সংগ্রহের ব্যবস্থা করা।
৩। মসজিদের মাইক ব্যক্তিগত ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রচারণার কাজে ব্যবহার না করা।
৪। শব্দের মাত্রা ও সময়সীমা এমনভাবে নির্ধারণ করা যাতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি না হয়।
আমরা বিশ্বাস করি, ইসলাম মানুষের জন্য সহজতা, সৌন্দর্য ও কল্যাণের শিক্ষা দেয়। মসজিদ হবে ইবাদত, জ্ঞানচর্চা, নৈতিকতা ও সামাজিক সম্প্রীতির কেন্দ্র। তাই মসজিদের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রেখে এবং সাধারণ মানুষের সুবিধা-অসুবিধার কথা বিবেচনা করে বিষয়গুলো পর্যালোচনা করার জন্য আপনাদের প্রতি বিনীত আহ্বান জানাচ্ছি।
আল্লাহ তাআলা আপনাদের খেদমত কবুল করুন, আমাদের সকলকে সঠিক বুঝ দান করুন এবং আমাদের সমাজে শান্তি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বৃদ্ধি করুন।
ওয়াসসালাম।
বিনীত,
নবীনগর উপজেলার সচেতন মুসল্লিবৃন্দ, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী।