কবিতার নাম- বন্ধু মিলনমেলা
ডঃ মোহাম্মদ ইউসুফ মিঞা
৮৫ ব্যাচের আমাদের সুপ্রিয় বন্ধুদের মিলন সভা
মনের শত কথামালা প্রাণখুলে সবাই বলবা।
আজ ফিরে এসেছি আমরা কিশোর কিশোরীরা
জানতে বড্ড ইচ্ছে হয় কেমন আছো তোমরা।
উৎসব পূজা পার্বনে বছরের শুরুর বৈশাখীতে
আবেগ উচ্ছ্বাসে ভাসতে ভালোলাগার কথাতে।
শ্রেণীকক্ষের বেঞ্চের কোনাকোনি আড়িপাতা
চোখে চোখের ভাষায় বুকে ঝংকারে বাড়াতো ব্যাথা।
অব্যাক্ত কথামালা খুঁজে বেড়ায় স্মৃতির খাতায়
হৃদয়ের হাহকারে যন্ত্রণা কেবলই হাতড়িয়ে বেড়ায়।
২১শে ফেব্রুয়ারীর মহান ভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে
নানানরংয়ের সাজুনিতেবন্ধুরা আসতে বর্নিল আয়োজনে।
৮০’র দশকে সবুজ মাঠের ফাল্গুনের হাওয়া
উদাসচিত্তে মন হারাতো দেখে মাঝি মাল্লার নৌকা বাওয়া।
মনে পড়ে আমাদের প্রিয় খলিল স্যারের কথা
চোখ ভিজিয়ে কান্না পায় তপ্ত বুকে বাড়ে ব্যাথা।
বেনীমাদব দত্তের অঙ্কের কৌশলে মাথা যেতো খুলে
কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সমস্যার সমাধান যেন মিলে।
গোপাল বাবুর ভাব গাম্ভীর্যের রাশভারি আলাপন
আধার দূর হয়ে যোগাতো বাস্তবে আলোর মিলন।
শহীদুল্লাহ্ ওবায়েদূল্লাহ স্যারদের প্রাণউজার করা বার্তা
আজো কাজে লাগে হতে বাস্তবের বড় সরকারী কর্তা।
আলফাজ নাসির স্যারগনের মধুর মধুর সুবচন
আনন্দে দূলাতো আমাদের চঞ্চল প্রাণ সারাক্ষণ।
গেমটি জলিল কেরানী জলিল স্যারদ্বয়ের দর্শন ছিলো সত্যিসত্যিই শিক্ষনীয়
মনের গহীন স্থানে ওনারা আজো কতো পূজনীয়।
মতিয়ূর রহমান ও গঙ্গাসাগর মন্ডল স্যারের ব্যাকরণ
বাক্য গঠনে খুলে দিয়েছে আমাদের দুই নয়ন।
মুজিব স্যারের বীজগনিতে বায়োলজির সেই ছবিতে
উপদেশ দিতো ছন্দে ছন্দে ফর্মূলা মুখস্ত করতে।
মালেক সার ছাত্তার স্যারের হাতের লেখার খাতা
হস্তাক্ষর শিখতে প্রতিদিনই লিখতে হতো একপাতা।
খুরশীদ আলম স্যারের বাংলা সাহিত্যের উপমা ও ব্যাখ্যা
গ্রীষ্মের প্রখর গরমে হাতে থাকতো তালপাতার পাখা।
ইসলামীয়াত পড়াতেন হুজুর স্যারেরা পড়ন্ত দূপর বেলায়
পান চিবানোতে চুন খয়ের সাদাপাতায় ঠোঁট রাঙায়।
রজ্জব আলী উপেন্দ্র পাল দপ্তরির ঘন্টা বাজানো সুর
সময় মতো বেল না বাজালে স্যারেরা হতো বিকেলে কঠোর
দীর্ঘ বহুবছর পরে মনে পড়ে আমার প্রিয় বন্ধুদের কথন
পাই না খুঁজে হয়ে যাচ্ছে যেনো ছন্দের পতন।
আবার হবে তো দেখা কোনো এক অজানা বেলায়
যদি বেঁচে থাকি দেখা হবে সেবার জম্পেশ আড্ডায়।
আমাদের ১২ জন বন্ধু চলে গেছে চিরতরে ওপারে
হৃদয়ে রেখো অশ্রু বর্ষনে মাগিও প্রার্থনা সবার তরে।
বিদায় বেলায় বলে যাই মাফ করিও আমি সুরহারা দিশারী
ভালো থেকো বন্ধুরা ভালো থেকো সেই ৮৫’র কিশোরী।
সাঙ্গ হলো বেলা এবার করুনসূরে বিদায়ের পালা
শুভেচ্ছা ভালোবাসায় স্মরণে রেখো ৮৫’র বন্ধু মিলনমেলা।