শিরোনাম :
স্বামী স্ত্রীর দ্বন্দ্বে ঘর বাড়ি ছাড়া বাড়ির মালিক শাশুড়ী ভালোবেসে বিয়ে করে নাহিদা স্বামীর ভিটা থেকে লাশ হয়ে ফিরলেন বাবার বাড়ী নৈশপ্রহরী ও পিয়ন যখন কলেজের হর্তাকর্তা ! দেড়শো বছরের ব্রাহ্মণবাড়ির নবীনগর আদালত পুকুর বিলুপ্তপ্রায়! আলমনগর ফজলুর রহমান মহুরী স্মৃতিবৃত্তি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত আলমনগর ফজলুর রহমান মহুরী স্মৃতিবৃত্তি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত নবীনগরে প্রবাসীদের উদ্যোগে’ ঈদ উপলক্ষে গরীব অসহায় এবং দুস্হ পরিবারের মাঝে মাংস বিতরণ। রতনপুর ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়নে নিজেকে উৎসর্গ করতে চাই -মোঃ ওবায়েদ উল্লাহ অবিদ নবীনগর নিউ মডেল প্রেস ক্লাবের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত জনপ্রিয়তার শীর্ষে বীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন
রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:০২ অপরাহ্ন

যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীর গায়ে ডিজেল ঢেলে আগুন দিলেন স্বামী

প্রতিনিধির নাম / ৫৫২ বার
আপডেট : মঙ্গলবার, ৯ জুলাই, ২০২৪

যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীর গায়ে ডিজেল ঢেলে আগুন দিলেন স্বামী

মোঃ শাহজাহান কবির প্রধান

পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি
যৌতুকের জন্য স্বামীর দেওয়া ডিজেলের আগুনে পুড়ে তিনদিন ধরে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন গৃহবধূ লতা বেগম (২৫)।

তার শরীরের প্রায় অর্ধেক অংশেই পুড়ে গেছে। চিকিৎসকরা বলেছেন, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। মেয়ের চিকিৎসার খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছেন দরিদ্র মা-বাবা।

তিন সন্তানের জননী ওই নারীর উন্নত চিকিৎসা আটকে আছে আর্থিক সংকটে। এ অবস্থায় হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন লতা।

সোমবার (১ জুলাই) সকালে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার সাকোয়া এলাকার বারঘড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পাষণ্ড স্বামী মহব্বত আলী ওই গ্রামের শামসুল হকের ছেলে। তবে শ্বশুর-শাশুড়ির সামনেই লতা বেগমের শরীরে ডিজেল ঢেলে দেয় মহব্বত আলী। এগিয়ে আসেনি কেউ। এতে দগ্ধ হয়ে শরীরের বেশকিছু অংশ পুড়ে যায়। এ ঘটনায় অভিযোগের প্রেক্ষিতে মহব্বতকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, আট বছর আগে মহব্বত আলীর সঙ্গে বিয়ে হয় লতা বেগমের। এই দম্পতির এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। লতা বেগমকে না জানিয়ে চার মাস আগে মহব্বত আলী দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এরপর যৌতুক ও তালাকের জন্য নিয়মিতই লতার ওপর নির্মম নির্যাতন চালাতেন। সোমবার ১ জুলাই সকালে মহব্বত যৌতুকের জন্য মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে ঘরে থাকা ডিজেল স্ত্রী লতার শরীরে ঢেলে প্রকাশ্যে আগুন ধরিয়ে দেয় স্বামী মহব্বত আলী। এ সময় বাড়িতে থেকেও মহব্বতের মা-বাবা এগিয়ে আসেনি। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

স্বজনদের অভিযোগ তিন সন্তান ও স্ত্রীকে রেখে মহব্বত দ্বিতীয় বিয়ে করায় প্রায়ই নির্যাতন চালাতো। তার এমন কাজের জন্য কঠিন শাস্তির দাবি জানান তারা।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভুক্তভোগী লতা  জানায়, অনুমতি না নিয়ে ১২ বছর আগে বিয়ে হওয়া এক নারীকে বিয়ে করে আমার স্বামী। তারপর আমাকে যৌতুক ও তালাক দিতে নানাভাবে নির্যাতন করে। শেষ পর্যায়ে এসে ডিজেল ঢেলে মেরে ফেলতে চেয়েছিল কিন্তু আল্লাহ বাঁচিয়ে রেখেছেন। তবে বেঁচে লাভ কি। সন্তানদেরকে দেখবে। আমার বাবা- মায়ের কিছু নেই। অর্থের অভাবে আমার চিকিৎসা করাতে পারছেন না। যদি কারও দয়া হয় সহযোগিতা করবেন। আমি আমার স্বামী ও ওই নারীর বিচার চাই।

ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. রকিবুল আলম (চয়ন) ঢাকা মেইলকে জানান, শরীর পুড়ে যাওয়া নারীকে হাসপাতাল থেকে সব সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। তবে তার উন্নত চিকিৎসা দরকার। অর্থের অভাবে তার পরিবার উন্নত চিকিৎসা করাতে পারছে না।

এ বিষয়ে বোদা থানার ওসি মো. মোজাম্মেল হক জানান, যৌতুক ও দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে কথাকাটি হতো তাদের মধ্যে। মহব্বত এসব বিষয়ে প্রায় নির্যাতনও করতো বলে অভিযোগ রয়েছে। শরীরে ডিজেল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় মহব্বত আলীসহ কয়েকজনের নামে একটি মামলা করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। পরে ওই নারীর স্বামী মহব্বত আলীকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে।

Facebook Comments Box


এ জাতীয় আরো সংবাদ