শিরোনাম :
ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগরে ছোট বড় নদীগুলোর নাব্যতা সংকটে বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় প্রজাতির মৎস্য সম্পদ বিলুপ্তির পথে ২০০ বছরের ঐতিহ্য নৌকা শিল্প (১-১২)তম নিবন্ধনধারীদের ফাইল মন্ত্রণালয় থেকে এনটিআরসিএতে ধান মাড়াই মেশিনে নবীনগরে শ্রমিকের হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন টানটান উত্তেজনার ফাইনাল, দর্শকদের হৃদয় জিতে নিল দুই দলই দেবীগঞ্জে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা কলেজ ছাত্র গ্রেফতার। ‎বাবা কোথায়?” ৩ বছরের শিশুর আর্তনাদ, খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সিলেটে হাজারো মানুষের মানববন্ধন সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত নোয়াখালীর ফরহাদ, আইসিইউতে ২ বোদায় নাবালিকা মেয়ের পাঁচ মাসের গর্ভের ভ্রুণ হত্যা করার চেষ্টা। সাত খামার ফাজিল মাদ্রাসায় পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত।
বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ০৬:৩৭ অপরাহ্ন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগরে ছোট বড় নদীগুলোর নাব্যতা সংকটে বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় প্রজাতির মৎস্য সম্পদ

প্রতিনিধির নাম / ১৪ বার
আপডেট : মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগরে ছোট বড় নদীগুলোর নাব্যতা সংকটে বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় প্রজাতির মৎস্য সম্পদ

মোঃখলিলুর রহমান খলিলঃ তিতাস মেঘনার অববাহিকায় অসংখ্য খাল বিল বেষ্টিত উপজেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর । একসময় এখানে কোন বসতি ছিল না। কালিদাস সাগরে জেগে উঠা চরে মানুষের বসবাস শুরু হয় ৫০০ বছর আগে ।নদ- নদী, খাল- বিল বেশি হওয়ায় এই অঞ্চলের প্রধান নদী মেঘনা,তিতাস,বুড়ি ও পাগলা নদীর নদীর তীরে গড়ে উঠে জেলে পল্লী।বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের যারা মাছ ধরার পেশায় জড়িত ছিলো তারা জাতে বর্মন,হাওলাদার বা সরকার গ্রোত্রের হতো।এই জেলে সম্প্রদায়ের জীবন ও নদ নদীর কাহিনী নিয়ে রচিত হয়েছিল বিখ্যাত উপন্যাসিক অদ্বৈত মল্লবর্মন এর উপন্যাস “তিতাস একটি নদীর নাম”।এই উপজেলায় হাওড় ৫টি, জলাশয় ৫৮ টি যার পরিমান ২০ একর,৫৭টি খাস পুকুর ও অসংখ্য খাল -বিল রয়েছে, তিতাস নদী থেকে উৎপন্ন বুড়ি নদী নবীনগর শহর ছুঁয়ে দক্ষিণপূর্ব কোনে শালদাতে মিশে।এই প্রবাহের মাঝে বুড়ির শাখা শালকান্দি গ্রামের কোল ঘেষে যুগিদাড়া ব্রীজ ( ইব্রাহিম পুর ব্রীজ)হয়ে যবনা নাম ধারন করে পশ্চিমে গমন করে। যমনা (যমুনা)নদী গিয়ে পশ্চিমাঞ্চলের রসুল্লাবাদ, রতনপুর ইউনিয়নে শেষ হয়।নবীনগরের দক্ষিণ অঞ্চলের বাঙ্গরা বাজার থেকে সাতমোড়া ইউনিয়ন পর্যন্ত অদের খাল,মাঝিকাড়া খাল হয়ে শ্রীরামপুর ইউনিয়ন, শ্যামগ্রাম ইউনিয়ন, বড়িকান্দি ইউনিয়ন ও সলিম গঞ্জ ইউনিয়নে যাওয়ার জনপ্রিয় নৌপথ ছিলো।নবীনগর পশ্চিম পাড়া খাল দিয়ে নবীনগর পশ্চিম ইউনিয়ন, পার্শ্ববর্তী রায়পুরার মির্জা চর, চানপুড়,চড়মধুয়া,বাঁশগাড়ী ইউনিয়নে যাওয়ার নৌপথ ছিল।শিবপুর দিয়ে নাটঘর,কাইতলা ইউনিয়ন হয়ে ময়দাগঞ্জ যাওয়ার নৌপথ ছিল। লাউর ফতেহপুর ইউনিয়ন, বিটঘর ইউনিয়ন, পার্শ্ববর্তী মুরাদনগর ও কসবায় সংযোগ খাল ছিল কালিগঞ্জ বাজার পর্যন্ত।ইব্রাহিম পুর ইউনিয়ন থেকে জিনদপুর পর্যন্ত একটি নৌ যোগাযোগের খাল ছিল। নবীনগর পূর্ব ইউনিয়ন, বিদ্যাকোট ইউনিয়ন ও নাটঘর ইউনিয়নে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যমে ছিল মেরকোটা ও সোনাপাড়া দিয়ে যাওয়া খালটি। এই খাল গুলোতে সারা বছর পানি থাকতো। এই খালগুলো নৌ যোগাযোগের জন্য যেমন ছিলো জনপ্রিয় মাধ্যম তেমনি ছিলো দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রজনন কেন্দ্র ও অভয়ারণ্য।
এই খালগুলোতে এক সময় পাল তুলা নৌকা চলতো,মাছ ধরার খড়া জাল বসানো হতো।দখল আর দূষনের হুমকির মুখে নদ-নদী ও খালবিল আর এই কারনে মূলত দেশিয় প্রজাতির মাছের প্রজনন কেন্দ্র ও ধ্বংস হচ্ছে। অস্তিত্ব হারাতে বসেছে নবীনগরের ইতিহাস ঐতিহ্যর ধারক বাহক নদ – নদী ও খাল- বিল গুলো পাশাপাশি বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় প্রজাতির মাছের সংখ্যা। কচুড়িপানাও খালবিলের নৌপথে বিঘ্ন সৃষ্টি করে দেশীয়প্রজাতির মাছের প্রজননে বাধা সৃষ্টি করে। এক সময় ভরা বর্ষায়৫০টিরও বেশি দেশীয় মাছ সচরাচর চোখে পড়তো।
রুই, কাতলা, মৃগেল, ইলিশ, বোয়াল, চিতল, চিংড়ি, তেলাপিয়া, শোল, কই, মাগুর, শিং, পাবদা, টাকি, ট্যাংরা, বাইম, ফলি, গলদা চিংড়ি, ভেটকি, বাটা, আইড়, পুঁটি, কালিবাউশ, মলা, ঢেলা, বাতাসি, রিটা, বাঘাইড়, খলশে, কুঁচে, চান্দা, চাপিলা, বাইলা, সুরমা, লোট্যা, রূপচাঁদা, সুরমা, ছুরি, তপসে, কাকিলা, ভোলা, পারশে, দাতিনা, বেলে, পাবদা, বাইন, বাঘাআইড়,
ইত্যাদি।এছাড়াও, নবীনগরে ২৬০টিরও বেশি প্রজাতির স্বাদুপানির মাছ এক সময় দেখতে পাওয়া যেতো । বিভিন্ন কারনে দেশি প্রজাতির মাছ বিলুপ্তি হচ্ছে।জলবায়ু পরিবর্তন, অতিমাত্রায় আহরণ, প্রাকৃতিক প্রজননক্ষেত্র নষ্ট হওয়া, দূষণ, এবং আবাসস্থলের অভাব। এছাড়াও, অপরিকল্পিত কীটনাশক ব্যবহার, জলাশয় ভরাট, এবং নদ-নদীর ও খাল বিলের নাব্যতা হ্রাস দেশি মাছের বিলুপ্তির জন্য দায়ী।

একসময় দেশি বিভিন্ন প্রজাতির মাছ নবীনগর সদর বাজার, মানিকনগর বাজার,কৃষ্ণনগর বাজার,ইব্রাহিমপুর বাজার, সলিম গঞ্জ বাজার সহ হাটবাজারে মিলত প্রচুর।

এসব মাছ কমে যাওয়ার পেছনে অন্তত ১৪টি কারণকে চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন নবীনগর উপজেলা মৎস কর্মকর্তা । নবীনগরে পৌষ-মাঘ মাসে পুকুর, খাল, ডোবা, ঘেরের পানি কমতে থাকলে দেশি মাছ ধরার ধুম পড়ে যেত। এখন সেসব দেখা যায় না। বর্ষাকালে ধানের জমিতে কইয়া জাল, বড়শি ও চাঁই পেতে মাছ ধরার রীতিও হারিয়ে গেছে অনেক এলাকা থেকে। যারা একসময় পুকুর, খাল-বিল, ডোবা, নালায় মাছ ধরে পরিবারের চাহিদা পূরণ করতেন, তাদের অনেকেই এখন বাজার থেকে চাষের মাছ কিনে খেতে বাধ্য হচ্ছেন।

জেলে সম্প্রদায়ের লোকেরাও পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছেন।
নবীনগর উপজেলার গোপনাথ পুর,রসুল পুর, চান্দের চড়,কান্দি, মানিক নগর, সাদেকপুর ছিলো জেলে সম্প্রদায়ের বসবাস। জেলে সম্প্রদায়ের একমাত্র উপার্জনের উৎস ছিল মাছধরা।গোপীনাথপুর ( মনতলা)র জেলে সুনীল বর্মন বলেন,” নদ নদীর নাব্যতা সংকটে আমাদের জীবন যাত্রা হুমকির মুখে, নবীনগরের সরকারি জলাশয় গুলোও যদি আমাদেরকে দেওয়া হয়,সরকারি প্রণোদনা পেলে আমরা দেশীয় প্রজাতির মাছ চাষ করতে পারবো”।

এ বিষয়ে নবীনগর উপজেলা মৎস কর্মকর্তা আক্কাস আলীর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন দেশীয় প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির জন্য মূলত দায়ী খাল-বিলের নাব্যতা হ্রাস,নিষিদ্ধ জাল ও যন্ত্র ব্যবহার করে মাছ শিকার, কীটনাশক ব্যবহার, বর্জ্য জলাশয়ে ফেলা ও জলাশয় সেচে মাছধরা।

মৎস্য অধিদফতরের সূত্র বলছে, হারিয়ে যাওয়া দেশি প্রজাতির মাছের সংখ্যা আড়াই শ-এর বেশি। হাটবাজার, পুকুর, খাল, বিল কোথায়ও এখন আর মিঠাপানির সুস্বাদু সেসব মাছ মিলছে না। দেশি মাছের বদলে এখন বাজারে জায়গা দখল করে নিয়েছে চাষের পাঙ্গাস, তেলাপিয়া, ক্রস ও কার্প জাতীয় মাছ।

সংবাদ দাতা ঃ মোঃ খলিলুর রহমান
নবীনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
মোবাইল ঃ01743926778

Facebook Comments Box


এ জাতীয় আরো সংবাদ