গোয়ালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জায়গা দখলের অভিযোগ
মোহাম্মদ খলিলুর রহমানঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার কাইতলা দক্ষিণ ইউনিয়নের গোয়ালী গ্রামের একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গোয়ালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিজস্ব সম্পতি ব্যক্তি স্বার্থে দীর্ঘ ৩০ বছর যাবৎ দখলে নিয়ে রেখেছেন মোস্তফা আলীর পরিবার। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ১৯৩৯ সালে গ্রামের সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান ওয়ালী আহমেদ চৌধুরী গোয়ালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করতে ১৮৮৮দাগে বিশ শতাংশ জমি দান করেন। পরবর্তীতে এই বিদ্যালয়ের অধীনে গ্রামের ১৯৩২ দাগের ৪২ শতক ১৯৪০ দাগে ৫৬ শতক খাস খতিয়ানভুক্ত জায়গা নেওয়া হয়। স্কুলের ৪২ শতক জায়গায় নতুন করে ৯৫ লক্ষ টাকা ব্যায়ে তিন তলা ভবনের নির্মাণ কাজ মামলা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে বাতিল হয়ে যায়। ৪২ শতক জায়গা থেকে ২০ শতক জায়গা নিজের দাবি করে গোয়ালী গ্রামের মোস্তফা আলী আদালতে মামলা করেন ১৯৯০ সালে। দীর্ঘদিন মামলা চলার পর মামলার রায় আসে স্কুলের পক্ষে। ২০১৯ সালে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুম ও সরকারি সার্ভেয়ার রফিকুল উপস্থিত হয়ে মামলার বাদী মোস্তফা আলীর ছেলে বর্তমান কাইতলা দক্ষিণ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রুহুল আমিন সংগ্রামের উপস্থিতিতে সরকারি ভাবে সাইনবোর্ড লাগিয়ে ৪২ শতক জায়গার দখল বুঝিয়ে দেয়া হয় স্কুল কর্তৃপক্ষকে।কিন্তু ২০১৯ সালে আবার রুহুল আমিন সংগ্রাম স্কুলের এই বিশ শতক জায়গার জন্য মামলা করে বসেন। মামলায় আসামি করা হয় স্কুলের প্রধান শিক্ষক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসককে। এই মামলা জটিলতার কারণে স্কুলের অবকাঠামোগত কোন উন্নয়ন হচ্ছে না, স্কুলের ভবনের সাথে লাগুয়া রাস্তা অনেক সময় শিক্ষার্থীরা সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কাউসার সুলতানা বলেন, আমরা অচিরেই এই সমস্যার সমাধান চাই আমাদের শিক্ষার্থীরা খুব সমস্যায় আছে যেকোনো মুহূর্তে বড় এক্সিডেন্ট ঘটতে পারে।
বিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক সভাপতি তানভীর আহমেদ সেলিম চৌধুরী বলেন আমি এ,কে,এম তানভীর আহম্মেদ চৌধুরী ( চৌধুরী সেলিম )৪৫ নং গোয়ালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়র সদ্য সাবেক সভাপতি ।আমাদের বিদ্যালয়টি বতর্মানে মাত্র ২০ শতাংশ জায়গার উপর অবস্হিত ।বার বার ভবন করার জন্য সরকারী বরাদ্দ আসলেও ভবন করার জন্য পর্যাপ্ত পরিমান জায়গা না থাকার কারনে বরাদ্দ ফেরত যাচ্ছে।স্কুলের খেলার মাঠের সাথে পশ্চিম পাশে স্কুলের নামে আরও ৪২ শতাং আছে ,যাহা কিনা বতর্মান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রুহুল আমীন (সংগ্রাম) অবৈধ ভাবে ২০ শতাংশের উপর পুকুর কেটে দখল করে রাখছে এবং মামলা দিয়ে রাখছে ।স্কুলের স্বার্থে যদি হয় সম্ভব হয় পরিদশন করার জন্য অনুরোধ রইল।এ ব্যাপারটি সাবেক চেয়ারম্যন সহ এলাকার সবাই অবগত আছেন।স্কুলের স্বার্থে সকলের সহযোগীতা একান্তই কাম্য ।
মূলত রুহুল আমিন সংগ্রাম চেয়ারম্যান ৪২ শতক জায়গা দখলের ষড়যন্ত্রে ৪২ শতকের জায়গার মধ্যে নাম সর্বস্ব একটি মাদ্রাসা স্থাপন করেন অথচ সরজমিনে গিয়ে মাদ্রাসায় কোনো শিক্ষক ছাত্রের দেখা পাওয়া যায়নি। গ্রামবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায় এই মাদ্রাসায় আদৌ কোন শিক্ষার্থী পড়ালেখা করে না অথচ তিন শতক জায়গা মাদ্রাসার জন্য আলাদা নির্ধারিত রয়েছে, ওই নির্ধারিত জায়গায় মাদ্রাসা না করে অসৎ উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য সংগ্রাম চেয়ারম্যান স্কুলের ৪২ শতক জায়গার মধ্যে কান্ডজ্ঞানহীন ভাবে মাদ্রাসার ভবন তৈরি করে ফেলেন, এই ৪২ শতক জায়গার মধ্যে সংগ্রাম চেয়ারম্যান দোকান, টয়লেট ও খরের স্তুপ ইত্যাদি দিয়ে দখলের পায়তারা করছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জায়গাকে কেন্দ্র করে ১৯৭৯ সালে মন মিয়া সর্দারকে হত্যা করা হয়।মনমিয়া সর্দারের নামে স্কুলের ৪২ শতক জায়গার শেষ প্রান্তে স্মৃতিসৌধ করলেও দখলদারত্বের মাধ্যমে পুকুর খনন করাই স্মৃতি সৌধটি পুকুরে ভেঙে পড়ে।
গোয়ালী গ্রামের হাজী সিদ্দিক সর্দারের ছেলে মামুন মিয়া বলেন, স্কুলের জায়গা থেকে সংগ্রাম গাছ কর্তন করে বিক্রি করলে তৎকালীন সময়ে আমি প্রতিবাদ করি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গাছ কাটার সত্যতা পেয়ে গাছ গুলো জব্দ করেন।
সংগ্রাম আমাকে ও আমার ভাই সৈকত আলীকে বিবাদী করে কোর্টে চাঁদাবাজীর মামলা করেন।
আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই, টিওনো স্যার ও ডিসি স্যারের সুদৃষ্টি কামনা করছি
স্কুলের মাঠে খেলা করা অবস্থায় শিক্ষার্থীরা বলেন আমরা চাই আমাদের স্কুলের ৪২ শতক জায়গার মধ্যে আমাদের স্কুলের নতুন ভবন হোক তাহলে পরে স্কুলের পাশের আরো ৫৬ জায়গায় রয়েছে এতে করে বড় জায়গা নিয়ে স্কুলের মাঠ হবে শিক্ষার্থীরা চমৎকার পরিবেশে পড়াশুনার সুযোগ পাবে।
এ বিষয়ে জানতে নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব চৌধুরীর নিকট প্রশ্ন করলে তিনি বলেন আমি এই বিষয়ে অবগত নই, আমি যাবতীয় বিষয়ে তথ্য উপাত্ত নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।