শিরোনাম :
নবীনগরে কৃষক, মাঝি ও জেলেদের শত্রু কচুরিপানা ! নবীনগরের আহমদ পুরে চারশো বছর ধরে টিকে আছে শৈল্পিক কারুকাজ খচিত মসজিদ নবীনগরে বর্ষার সৌন্দর্য্য বিলুপ্তের পথে শৈশবের স্মৃতি বিবর্ণ হচ্ছে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম! নবীনগরে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালিত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে শ্রেষ্ঠ মৎস্যচাষী পদক পেলেন উদ্যোক্তা মনির হোসেন কলমে সত্য, হৃদয়ে মানবিকতা—এটাই হোক সাংবাদিকতার অঙ্গীকার—প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু নাছের। ভিটিবিশাড়া হজরত খাজা জহিরুল ইসলাম রহঃ এর ০৩দিনব্যাপী ওরশ আগামী শুক্রবার থেকে। নবীনগরের চতরংখোলা’য় জমকালো আয়োজনে মিনি বার ফুটবল টুর্ণামেন্টে ফাইনাল অনুষ্ঠিত। জাতির জনক — শ্যামল বর্মন শিমুল
মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৭ অপরাহ্ন

নবীনগরে মহর্ষি মনোমোহন দত্তের ম্যুরাল উদ্বোধন

প্রতিনিধির নাম / ১৩৫৬ বার
আপডেট : মঙ্গলবার, ২৭ জুন, ২০২৩

নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় মহর্ষি মনোমোহন দত্তের ম্যুরাল উদ্বোধন করা হয়েছে। সাধক কবি মনোমোহন দত্তের জন্মস্থান সাতমোড়া আনন্দ আশ্রমে এই ম্যুরাল নির্মিত হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার একরামুল ছিদ্দিক সোমবার (২৬ জুন) ম্যুরালটির উদ্বোধন করেন। পরে আনন্দ আশ্রম কমিটির আয়োজনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভার সভাপতিত্ব করেন সাতমোড়া আনন্দ আশ্রমের সভাপতি শঙ্করী দত্ত।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার একরামুল ছিদ্দিক।
সাপ্তাহিক নবীনগর পত্রিকার সম্পাদক আব্বাস উদ্দিন হেলালের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতমোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন আহমেদ। এসময় বক্তব্য রাখেন নবীনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার একরামুল ছিদ্দিক ও আনন্দ আশ্রম সভাপতি শঙ্করী দত্ত।

উপস্থিত বক্তারা এবং স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, মনমোহন দত্ত ছিলেন মলয়া সংগীতের জনক, মরমী সাধক,মাইজভাণ্ডারী গানের গীতিকার, কবি, বাউল, সমাজ সংস্কারক ও অসংখ্য অসাধারণ গানের গীতিকার, সুরকার ও গায়ক। তিনি মনোমোহন সাধু নামেই অধিক পরিচিত ছিলেন। মনমোহন দত্তের লেখা গানগুলো সুর দিয়েছেন ওস্তাদ আলাউদ্দীন খাঁ এর জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা আফতাবউদ্দিন খাঁ।

মলয়া সঙ্গীতের প্রবক্তা মহর্ষি মনোমোহন দত্ত। সঙ্গীতজ্ঞ এই মহান সাধক-কবি জন্মগ্রহণ করেন (১২৮৪ বাংলার ১০ মাঘ) ১৮৭৭ সালে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার ছায়া- সুনিবিড় সাতমোড়া গ্রামে।

মনোমোহন দত্তের পূর্বপুরুষ ঢাকা সোনারগাঁয়ের জমিদার রাজবল্লভ দত্ত। জমিদারীর মোহকে পাশ কাটিয়ে, চলে আসেন তিনি সাতমোড়া গ্রামে। রাজবল্লভের পুত্র বৈদ্যনাথ দত্ত। তিনি ছিলেন সঙ্গীতের সমঝদার ও শ্যামা সঙ্গীতের রচয়িতা। বৈদ্যনাথের পুত্র পদ্মনাথ দত্ত। তিনি পেশায় ছিলেন কবিরাজ, কিন্তু অধ্যাত্মবাদে সমৰ্পিত প্ৰাণ।

লোকশ্রুতি রয়েছে যে, তিনি মৃত্যুর এক সপ্তাহ পূর্বেই নিজের মৃত্যুর দিন-ক্ষণ বলে গিয়েছিলেন। এই পদ্মনাথ দত্তের জেষ্ট্য পুত্রই হলেন মহর্ষি মনোমোহন দত্ত। তাঁর জন্ম (১২৮৪ বাংলা সালের ১০ মাঘ) ১৮৭৭ সালে এবং মৃত্যু (১৩১৬ বাংলা সালের ২০ আশ্বিন) ১৯০৯ সালে। বেঁচে ছিলেন যাত্র ৩১ বছর ৮ মাস ১০ দিন।ক্ষণজন্মা এই ঋত্বিক কবি তাঁর অল্পায়ু-জীবনে যে সৃষ্টিকর্ম ও সাধনার চিহ্ন রেখে গেছেন- তা চিরকালের সম্পদ ও পাথেয় হয়ে থাকবে।

Facebook Comments Box


এ জাতীয় আরো সংবাদ