শিরোনাম :
আলমনগর সাত ভাইয়া বাড়ী সমাজ কল্যান সংঘের পক্ষ থেকে ঈদ সামগ্রী বিতরণ নবীনগর পশ্চিম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে সড়ক যোগাযোগ, অবকাঠামো ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে ভূমিকা রাখবো – লিটন মিয়া যানযট,সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত উন্নয়ন বান্ধব আধুনিক নবীনগর পৌরসভা উপহার দিবো ইনশাআল্লাহ – ভিপি টিটো উত্তরা জোনের এসএসসি ২০০৫ ও এইচএসসি ২০০৭ ব্যাচের উদ্যোগে আনন্দঘন ইফতার মাহফিল উত্তরা জোনের এসএসসি ২০০৫ ও এইচএসসি ২০০৭ ব্যাচের উদ্যোগে আনন্দঘন ইফতার মাহফিল উন্নয়ন বান্ধব সুশৃঙ্খল পরিচ্ছন্ন রতনপুর ইউনিয়ন গঠনে কাজ করতে চাই- আব্দুল আউয়াল (বি.এস.এস) মহা উৎসাহ-উদ্দীপনায় গাজীপুর এক্সপ্রেস বন্ধুদের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত প্রবাসীর পরিবারের উপরে হামলা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটপাটের অভিযোগ! জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনে বিএনপির মহিলা সংসদ সদস্য পদে এগিয়ে আছেন মহিলা দলের নেত্রী প্রফেসর নায়লা ইসলাম রায়পুরার জনপ্রতিনিধির লাশ নবীনগরে উদ্ধার!
শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ০২:৩৩ অপরাহ্ন

ভূমিকম্প কেন হয় এবং নরসিংদী এর কেন্দ্র কেন? এ নিয়ে কিছু কথা।

প্রতিনিধির নাম / ১৪১ বার
আপডেট : শনিবার, ২২ নভেম্বর, ২০২৫
Oplus_131072

ভূমিকম্প কেন হয় এবং নরসিংদী এর কেন্দ্র কেন? এ নিয়ে কিছু কথা।

ভূমিকম্প সৃষ্টি হয় ভূত্বকের গভীরে। ভূমিকম্প যেখানে সৃষ্টি হয়, তাকে বলা হয় ভূমিকম্পের কেন্দ্রবিন্দু। কেন্দ্রবিন্দু বলা হলেও আসলে এটা হলো যথেষ্ট বিস্তৃত স্থান। এই স্থানের ঠিক উপরের মাটিকে বলা হয় ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র। ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র থেকে ভূমিকম্পের ঢেউ চার দিকে বৃত্তাকারে ছড়িয়ে পড়ে। যার কম্পনের ফলে ভেঙে পড়ে বাড়িঘর। ভূমিকম্প হয় মূলত মাটির নিচের শিলা আচমকা ভেঙে যাওয়ার ফলে। হঠাৎ করে এই ভাঙন মাটির তলার প্রচণ্ড শক্তির সৃষ্টি করে এবং এটা ঢেউয়ের মতো ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে মাটি কেঁপে ওঠে এবং মাটির ওপরে থাকা সবকিছু দুলতে থাকে। যখন মাটির নিচে দুটি ব্লক অথবা দুটি শিলার মধ্যে সংঘর্ষ হয়, তখন সেগুলো নিজেদের অবস্থান থেকে কিছুটা সরে যায়। তবে এটি খুব ধীরে ধীরে হয় এবং ভেঙে যাওয়া শিলাগুলো একে অপরের সাথে গায়ে গায়ে লেগে থাকে এবং একে অপরের ওপর চাপ দিতে থাকে। ভেঙে যাওয়া শিলাগুলো চাপের মধ্যে থাকায় একসময় সেগুলো ভাঙতে শুরু করে। যখন শিলাগুলো ভেঙে যায়, তখনই ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়। যে স্থানে শিলাগুলো ভেঙে যায়, সেটাকেই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল বলা হয়। একটা ছোট্ট পরীক্ষা করলে নিজেরাই ব্যাপারটা বুঝতে পারবে।

১. এক টুকরো ফোমকে দুই টুকরো করে ছিঁড়ে নিয়ে একটা সমতল টেবিলের ওপরে রাখেন।

২. ফোমের টুকরো দুটির ওপর হাত রেখে দুটি ফোমকে দুদিকে এমনভাবে চাপ দেন যাতে ফোম দুটির একটির সাথে আরেকটির জোরে ঘষা লাগে।

৩. বেশ কিছুক্ষণ এভাবে ঘষা দিলে দেখবে দুটি ফোম থেকেই একটু একটু করে টুকরা আলাদা হয়ে পড়ছে।

ঠিক এভাবেই দুটি শিলার সংঘর্ষের মাধ্যমে মাটির নিচে ভূমিকম্প হয়। এ ছাড়া মাটির নিচে বড় ধরনের বিস্ফোরণ হলেও ভূমিকম্প হতে পারে। মাটির নিচে রেলপথ, টানেল ইত্যাদি নির্মাণের জন্য বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। তবে এ ধরনের বিস্ফোরণের প্রভাব অতটা টের পাওয়া যায় না।

ভূমিকম্প সৃষ্টি হয় ভূত্বকের গভীরে। ভূমিকম্প যেখানে সৃষ্টি হয়, তাকে বলা হয় ভূমিকম্পের কেন্দ্রবিন্দু। কেন্দ্রবিন্দু বলা হলেও আসলে এটা হলো যথেষ্ট বিস্তৃত স্থান। এই স্থানের ঠিক উপরের মাটিকে বলা হয় ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র। ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র থেকে ভূমিকম্পের ঢেউ চার দিকে বৃত্তাকারে ছড়িয়ে পড়ে। যার কম্পনের ফলে ভেঙে পড়ে বাড়িঘর। আরেকটা কথা ভূমিকম্প বিষয়ে মানুষ টের না পেলেও অনেক প্রাণী (বিড়াল, কুকুর, বিভিন্ন পাখি ইত্যাদি) কিছুটা টের পেয়ে থাকে। কেননা, ভূমিকম্পের আগে মাইক্রো ভাইব্রেশন, শিলার চাপ থেকে উৎপন্ন ক্ষুদ্র শব্দ (ultra/infra sound), বায়ুমণ্ডলে বৈদ্যুতিক পরিবর্তন, এমনকি জলের রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে। মানুষ এগুলো অনুভব না করলেও অনেক প্রাণীর সেন্সর অত্যন্ত সংবেদনশীল।

ভূমিকম্পের দেশ’ হিসেবে পরিচিত জাপান বারবার বড় বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে। ভূমিকম্প, ভূমিকম্প থেকে সৃষ্ট সুনামিসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবসময় প্রস্তুত থাকতে হয় জাপানিদের। কিন্তু জাপানে কেন এত ভূমিকম্প? ভূ-তাত্ত্বিকদের মতে, জাপান প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত। বাংলায় যার অর্থ হয় ‘আগুনের গোলা’। ‘রিং অব ফায়ার’ এমন একটি কাল্পনিক বেল্ট যা ঘোড়ার খুর আকৃতির মতো প্রধানত প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলকে ঘিরে রেখেছে। রিং অব ফায়ারে যেসব অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত হয়েছে সেগুলো পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে ভূমিকম্পপ্রবণ। এই রিং অব ফায়ারই ৯০ শতাংশ ভূমিকম্পের কারণ। ৪০ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ এই ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে ৪৫২টি আগ্নেয়গিরি রয়েছে, যা পৃথিবীপৃষ্ঠে অবস্থিত মোট আগ্নেয়গিরির ৭৫ শতাংশ। এশিয়ার জাপান, পলিনেশিয়ার টোঙ্গো, দক্ষিণ আমেরিকার ইকুয়েডর এই রিং অব ফায়ারের অন্তর্ভুক্ত। তাই এসব অঞ্চলেই বেশি ভূমিকম্প হয়ে থাকে। পৃথিবীর কাঠামো মোটামুটি তিনটি ভাগে বিভক্ত। প্রথমত, বহির্ভাগের লবণাক্ত ও কঠিন ভূত্বক (পুরুত্ব প্রায় ৩০ কিমি.), দ্বিতীয়ত এর নিচে ২৯০০ কিমি. পুরু এক ধরনের ঘন ও আঠালো অংশ আর তৃতীয়ত সাড়ে তিন হাজার ব্যাসের কেন্দ্রীয় পৃষ্ঠ। দ্বিতীয় ভাগের ঘন ও আঠালো অংশের উপরিভাগ সাতটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে বিভক্ত। এগুলোই হচ্ছে টেকটোনিক প্লেট। প্লেটগুলোর নাম- প্রশান্ত মহাসাগরীয়, ইউরেশীয়, আফ্রিকান, আটলান্টিক, উত্তর আমেরিকান, দক্ষিণ আমেরিকান ও ইন্দো-অস্ট্রেলিয়। টেকটোনিক প্লেটগুলো একটি আরেকটির সঙ্গে ধাক্কা লাগলে বা সংঘর্ষ হলে ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়। গত বছর নেপালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের কারণ ছিল ভারতীয় প্লেট (ইন্দো-অস্ট্রেলীয় প্লেটের অংশবিশেষ) ও ইউরোশীয় প্লেটের সংঘর্ষ। এই দুটো প্লেটের
সংঘর্ষের ফলেই একসময় হিমালয় পর্বতের সৃষ্টি হয়েছিল।

আজ শুক্রবার সকালে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে, তার কেন্দ্র ছিল নরসিংদী জেলার সদর উপজেলার মাধবদী এলাকায়। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, গত কয়েক দশকে দেশের ভেতরে উৎপত্তি হওয়া ভূমিকম্পগুলোর মধ্যে এটি ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী। এর আগে সিলেট বা নোয়াখালী অঞ্চলে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হলেও এবার তা ঢাকার আরও কাছে নরসিংদীতে। ভূমিকম্প নিয়ে গবেষণা করেন এমন অনেকে বলছেন, এর আগে ঢাকার এত কাছে এই মাত্রার ভূমিকম্প উৎপত্তি হওয়ার ঘটনা ঘটেনি। বিবিসি বাংলার সাথে, ভূমিকম্প গবেষক ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পূরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেহেদি আহমেদ আনসারী এই কেন্দ্রস্থলের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মধ্যে টেকটোনিক প্লেটের যে পাঁচটি উৎস বা সোর্স আছে, তার মধ্যে নোয়াখালী থেকে শুরু করে কক্সবাজার, নোয়াখালী থেকে সিলেট এবং আরেকটি সিলেট থেকে ভারতের দিকে চলে গেছে। তিনি মনে করেন, নোয়াখালী থেকে সিলেট পর্যন্ত বিস্তৃত এই অংশে যে বড় ফাটল রয়েছে, তারই একটি ছোট অংশ নরসিংদী। ফলে এই এলাকায় ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল হওয়া অস্বাভাবিক নয়। উল্লেখ্য প্রায় একশ বছরের মধ্যে দেশে বড় ভূমিকম্প হয়নি। কিন্তু আমাদের দেশে বড় ভূমিকম্প হওয়ার ইতিহাস রয়েছে। সেদিক থেকে এই ভূমিকম্পটিকে ‘ফোরশক’ বলা যায়। অর্থাৎ, একটি বড় ভূমিকম্প আসার আগে যে ছোট ছোট ভূমিকম্পগুলো হয়, এটি তার মধ্যে একটি। ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ৭ মাত্রার ভূমিকম্প ১০০ থেকে ১২৫ বছর পরপর এবং ৮ মাত্রার ভূমিকম্প ২৫০ থেকে ৩০০ বছর পরপর আসার সম্ভাবনা থাকে। ১৯৩০ সালের পর দেশে বড় ভূমিকম্প না হওয়ায় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

লেখকঃমোশাররফ হোসাইন – উপজেলা নির্বাহী অফিসার পরশুরাম, ফেনী।

Facebook Comments Box


এ জাতীয় আরো সংবাদ