শিরোনাম :
সাত খামার ফাজিল মাদ্রাসায় পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত। নোয়াখালীতে ডিবির অভিযানে ১৪০০ লিটার ডিজেল জব্দ, গ্রেফতার ৪ নোয়াখালীতে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন ফুটপাত থেকে নতুন স্থায়ী বসত ভিটায় ফেরার স্বপ্ন পূরণ গোলাপির। স্বামী স্ত্রীর দ্বন্দ্বে ঘর বাড়ি ছাড়া বাড়ির মালিক শাশুড়ী ভালোবেসে বিয়ে করে নাহিদা স্বামীর ভিটা থেকে লাশ হয়ে ফিরলেন বাবার বাড়ী নৈশপ্রহরী ও পিয়ন যখন কলেজের হর্তাকর্তা ! দেড়শো বছরের ব্রাহ্মণবাড়ির নবীনগর আদালত পুকুর বিলুপ্তপ্রায়! আলমনগর ফজলুর রহমান মহুরী স্মৃতিবৃত্তি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত আলমনগর ফজলুর রহমান মহুরী স্মৃতিবৃত্তি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত
সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৫৩ পূর্বাহ্ন

বর্ষার আগমনী কদমফুল বিলুপ্তির পথে

প্রতিনিধির নাম / ৮১৭ বার
আপডেট : শনিবার, ২২ জুন, ২০২৪

বর্ষার আগমনী কদমফুল বিলুপ্তির পথে

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ

বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল করেছো দান, আমি দিতে এসেছি শ্রাবণের গান।’ বর্ষা নিয়ে রবীন্দ্রনাথের এ আবেগময়, প্রেমাসিক্ত গান শুধু বাঙালিদের জন্যই প্রযোজ্য। বর্ষা বিহীন বাংলাদেশ ভাবাই যায় না। পুষ্পে পুষ্পে-বৃক্ষে বৃক্ষে নতুন প্রাণের নতুন গানের সুর নিয়ে ঋতু রানী বর্ষার সমাগত। গুরুগম্ভীর বৃষ্টির কথা। রোমান্টিক ঋতু বর্ষাকাল এবং এই ঋতু বাঙালির একান্ত নিজস্ব।

‘বর্ষণমুখর সন্ধ্যা বা বৃষ্টিভেজা রাত বাংলাদেশ ছাড়া পৃথিবীর কোথাও মিলবে না। গ্রীষ্মের অগ্নিঝরা দিনগুলো যখন প্রকৃতিকে করে বিবর্ণ শুষ্ক এবং জনজীবনকে করে অসহনীয় তখনই বর্ষা রিমঝিম বৃষ্টি ঝরিয়ে প্রকৃতিকে করে সজীব। বৃষ্টির রিমঝিম ছন্দে, প্রেমিকের মনে সুর খেলে যায়।

প্রেমিক হৃদয় গেয়ে ওঠে, ‘আজি ঝরো ঝরো মুখর বাদল দিনে, জানি নে জানি নে, কিছুতে কেন যে মন লাগে না।’ সুরহীন প্রাণকেও সুরের মূর্ছনায় ছুঁয়ে যায় এ বর্ষা।

আষাঢ় ও শ্রাবণ বর্ষাকাল। পৃথিবীর আর কোনো দেশে ঋতু হিসেবে বর্ষার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য বা নাম নেই। বর্ষা যেন শুধু বাঙালির ঋতু। কদম ফুলের স্নিগ্ধ ঘ্রাণ যুগে যুগে নগর কিংবা গ্রামবাসীকে মুগ্ধ করে এসেছে। তাই বর্ষা কবিদের ঋতু, রবীন্দ্রনাথ-নজরুলের ঋতু। বর্ষা এলেই কদমের আনাগোনা, যার গন্ধ সুশোভিত করে তোলে দেহ-মন সারাক্ষণ। কদম ফুলের স্নিগ্ধ ছোঁয়ায় বৃষ্টি হয়ে উঠছে আরো বেশি কোমল। খাল-বিলে ভরাট পানিতে যেমন করে শাপলা সাজিয়ে তোলে, তেমনি চারপাশের পরিবেশকে মাতিয়ে এবং রঙিন করে দেয় কদম ফুল।

মেঘের ভেলায় ভেসে কদম ফুলের ডালি সাজিয়ে নবযৌবনা বর্ষার সতেজ আগমন ঘটে এদিনে। বৃষ্টি শুষ্ক মাটির বুককে ভিজিয়ে সতেজ করে দেয় তৃষ্ণার্ত গাছপালাকে। বৃষ্টির শীতল স্পর্শ জুড়িয়ে দেয় তপ্ত হূদয়। বৃষ্টির স্বচ্ছ পানি ভিজিয়ে দেয় আমাকে। আর আমি হাত বাড়িয়ে ছুঁয়েছি বৃষ্টিকে!
কদম গাছগুলো সাদা-হলুদের মিশ্র রঙের ফুলে ছেয়ে গেছে। বর্ষা মানেই গুচ্ছ গুচ্ছ কদম ফুলের সুবাস। বর্ষা মানেই বৃষ্টির রিনিঝিনি কিংবা নূপুর-নিক্বণ ধ্বনি। কদম ফুলের মতো তুলতুলে নরম, রঙিন স্বপ্ন দু’ চোখের কোণায় ভেসে ওঠে ঠিক যেমন করে আকাশে সাদা মেঘ ভেসে বেড়ায়। কদমের সুঘ্রাণে তৃপ্ত করতে ইচ্ছে হয় কোনো তৃষিত হৃদয়।
কদম গাছের শাখে পাতার আড়ালে ফুটে থাকা অজস্র কদম ফুলের সুগন্ধ লোকালয় পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ছে। আর তাই তো কদম ফুলকে বলা হয় বর্ষার দূত। কদম ফুলের আরেকটি নাম হচ্ছে নীপ। কদম ফুলের সৌন্দর্যের মতোই আরও কিছু চমৎকার নাম রয়েছে। বৃত্তপুষ্প, সর্ষপ, ললনাপ্রিয়, সুরভী, মেঘাগমপ্রিয়, মঞ্জুকেশিনী, কর্ণপূরক, পুলকি— এসবও কদম ফুলের নাম।এক সময় ঠাকুরগাঁও জেলায় গ্রাম বাংলার আনাচে কানাচে এই মনোরম শোভিত কদম ফুল দেখা যেত রাস্তার ধারে ধারে বন বাদারে কিন্তু জনসংখ্যা বৃদ্ধি, গাছপালা উজার করে বসতি স্থাপনের কারণে আজ কদমগাছ বিলুপ্তির পথে। তাই সচেতন মহলের অনুরোধ বনজঙ্গল উজার না করে বনকে রক্ষা করা আমাদের নিজ দ্বায়িত্ব।

Facebook Comments Box


এ জাতীয় আরো সংবাদ