শিরোনাম :
ফুটপাত থেকে নতুন স্থায়ী বসত ভিটায় ফেরার স্বপ্ন পূরণ গোলাপির। স্বামী স্ত্রীর দ্বন্দ্বে ঘর বাড়ি ছাড়া বাড়ির মালিক শাশুড়ী ভালোবেসে বিয়ে করে নাহিদা স্বামীর ভিটা থেকে লাশ হয়ে ফিরলেন বাবার বাড়ী নৈশপ্রহরী ও পিয়ন যখন কলেজের হর্তাকর্তা ! দেড়শো বছরের ব্রাহ্মণবাড়ির নবীনগর আদালত পুকুর বিলুপ্তপ্রায়! আলমনগর ফজলুর রহমান মহুরী স্মৃতিবৃত্তি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত আলমনগর ফজলুর রহমান মহুরী স্মৃতিবৃত্তি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত নবীনগরে প্রবাসীদের উদ্যোগে’ ঈদ উপলক্ষে গরীব অসহায় এবং দুস্হ পরিবারের মাঝে মাংস বিতরণ। রতনপুর ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়নে নিজেকে উৎসর্গ করতে চাই -মোঃ ওবায়েদ উল্লাহ অবিদ নবীনগর নিউ মডেল প্রেস ক্লাবের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত
রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:২৩ অপরাহ্ন

কোম্পানীগঞ্জে অবৈধভাবে মাটি কাটার মহোৎসব চলছে

প্রতিনিধির নাম / ১৫৩ বার
আপডেট : শনিবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২৫

কোম্পানীগঞ্জে অবৈধভাবে মাটি কাটার মহোৎসব চলছে

কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি: নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও প্রশাসনিক আদেশ অমান্য করে সংঘবদ্ধভাবে অবৈধ মাটি কাটার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি সিন্ডিকেট রাতের আঁধারে চরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে মাটি কেটে তা ইটভাটায় সরবরাহ করছে, যার ফলে পরিবেশ, কৃষি ও জনবসতিতে মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে বুধবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার চরফকিরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বামনী নদীর তীরবর্তী এলাকায় প্রকাশ্যে মাটি কাটার কার্যক্রম চলতে দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দা ও একাধিক সূত্র জানায়, আনোয়ার হোসেন মাসুদ, কেফায়েত উল্যাহ, আবদুর রহিম, বেলায়েত হোসেন, কামরুল, ইব্রাহিম, হেলাল, আরমান ও মিষ্টার নামে পরিচিত কয়েকজন ব্যক্তি এ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত। এরা সবাই স্থানীয় বাসিন্দা বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে একটি সংগঠিত চক্রের মাধ্যমে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করে আসছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সিন্ডিকেটটি চরাঞ্চলের ভূমির মালিকদের নামমাত্র অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে দু’ফসলি কৃষিজমির মাটি কেটে নিচ্ছে। এতে কৃষি জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে এবং অনেক জমি স্থায়ীভাবে ডোবা ও নালায় পরিণত হচ্ছে। ফলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কৃষকেরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

বামনী নদীর তীরবর্তী এলাকায় অবৈধ মাটি কাটার কারণে নদীভাঙনের ঝুঁকি বেড়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। তাদের আশঙ্কা, এভাবে মাটি উত্তোলন চলতে থাকলে ফসলি জমি, বসতবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থাপনা ও স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রভাবশালী মাটি ব্যবসায়ীদের কারণে ভূমির মালিক ও স্থানীয় জনগণ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে পারছেন না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা জানান, দিনে-দুপুরে মাটি কাটার পাশাপাশি প্রতিদিন রাত ৮টার পর থেকে ভোর পর্যন্ত এস্কেভেটর দিয়ে মাটি কেটে ট্রাক ও ট্রাক্টরের মাধ্যমে বিভিন্ন ইটভাটায় সরবরাহ করা হয়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শহিদ উল্যাহর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি জানান, তিনি গবাদি পশুর ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত। তবে তিনি দাবি করেন, মাসুদ, সোহাগ, জহির, কেফায়েত উল্যাহ, হেলাল ও মিষ্টার মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত এবং তারা আজাদ কোম্পানি, ডালিম কোম্পানি, রয়েল ব্রিকস ও আঁখি ব্রিকসের কাছে মাটি সরবরাহ করে থাকেন।

ডালিম কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মাটি ব্যবসায়ীরা সরকারি খাস জমি ও স্থানীয় ভূমির মালিকদের কাছ থেকে মাটি কিনে আমাদের কাছে বিক্রি করে থাকে। এতে আমাদের দোষ কিসের।

এ বিষয়ে আজাদ কোম্পানীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি ১৬ বছর যাবত মাটির ব্যবসার সাথে জড়িত। তবে আমি মাটি কাটতে এস্কেভেটর নিয়ে বামনী নদীর তীরে জমিনে গিয়েছিলাম। বিবেকের তাড়নায় আমি আমার এস্কেভেটর নিয়ে চলে এসেছি। আমি বামনী নদীর তীরে মাটি কাটার ব্যবসার সাথে জড়িত নয়।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাসুদুর রহমান জানান, মাটি কাটার বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে এবং এ বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Facebook Comments Box


এ জাতীয় আরো সংবাদ