শিরোনাম :
বেতন সমতাকরণ ও বিদ্যালয় মেরামতের অর্থ নিয়ে প্রশ্ন, সেনবাগে শিক্ষক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযোগ মাদকবিরোধী অভিযানে নোয়াখালীতে দুজনের জেল-জরিমানা পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে প্রস্তুতির ওপর গুরুত্বারোপ উত্তর গুজরা সবুজ সংঘের উদ্যোগে মাতৃসম্মেলন সেমিনার অনুষ্ঠিত গাজীপুরে সাংবাদিক ফাতেমা আক্তারের ওপর হামলা, গ্রেপ্তারের দাবি চট্টগ্রামে জিয়া মঞ্চের ৩৩ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ হয়েছে দাবী করে প্রতিবাদ কক্সবাজারে প্রাইভেটকারের নিচে ৮৯ হাজার ইয়াবা, আটক ১ নবীনগর–বাঞ্ছারামপুর সড়কের উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন আজকের বসুন্ধরার ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও প্রতিনিধি সম্মেলন
বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৪ অপরাহ্ন

অবহেলায় হারিয়ে যাচ্ছে সম্ভাবনা: দৃষ্টিহীন শফিকুলের টিকে থাকার যুদ্ধ

প্রতিনিধির নাম / ৩৫৪ বার
আপডেট : শনিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২৫

অবহেলায় হারিয়ে যাচ্ছে সম্ভাবনা: দৃষ্টিহীন শফিকুলের টিকে থাকার যুদ্ধ

মো বিল্লাল হোসেন :
গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার আরপি গেইট বাজারে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মো. শফিকুল ইসলাম (৪৮) প্রতিদিন কলস দিয়ে পানি টেনে জীবিকা নির্বাহ করছেন। দুই চোখে দৃষ্টিশক্তি হারালেও থেমে যায়নি তার জীবনযুদ্ধ। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে তিনি পরিচিত “মন্ত্রী” নামে।সবাই তাকে মন্ত্রী বলেই ডাকে।

পরিবারে রয়েছেন স্ত্রী সাবিনা খাতুন (৪০), যিনি একটি গার্মেন্টসে কাজ করেন। বড় ছেলে সাকিব (২০) বেকার এবং ছোট মেয়ে লামিয়া খাতুন (১৫) নবম শ্রেণির ছাত্রী। সংসারের সব খরচই চলছে শফিকুল ও তার স্ত্রীর সামান্য উপার্জনে।

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শফিকুল জানান, প্রতিদিন কলস ভরে পানি বয়ে চা দোকানে সরবরাহ করেন। প্রতি কলস পানির জন্য তিনি পান মাত্র ৫ টাকা। সারাদিন কাজ করলে আয় হয় মাত্র ৭০–৯০ টাকা। এতে পরিবার চালানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, “কাজ থাকলে টাকা পাই, কাজ না থাকলে কিছুই থাকে না। যদি আমাকে ছোট কোনো ব্যবসা করার মতো সহযোগিতা করা হতো, তবে পরিবার নিয়ে স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকতে পারতাম।”

তার ডান চোখ সম্পূর্ণ অন্ধ। বাম চোখে কেবল কাছের জিনিস সামান্য দেখা যায়। রাতে চলাফেরাও তার পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ে।

আরপি গেইট বাজারের রোমানা হার্ডওয়্যারের স্বত্বাধিকারী সাত্তার মোল্লাহ বলেন, “শফিকুল অত্যন্ত সৎ ও পরিশ্রমী। কিন্তু চোখের সমস্যার কারণে সন্ধ্যার আগেই তাকে কাজ বাদ দিয়ে বাড়ি ফিরে যেতে হয়।”

ইসলামীয়া ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী রাকিব জানান, “বহু বছর ধরে তাকে সততার সঙ্গে পানি টানতে দেখছি। বাজারের সবাই তাকে ভালোবাসে এবং প্রয়োজনীয় কাজও তাকে দিয়ে করান।”

নিয়মিত আয়ের নিশ্চয়তা না থাকায় শফিকুল মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন। পরিবার ও সমাজের কাছে হেয় হয়ে থাকতে হচ্ছে তাকে।

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শফিকুল ইসলাম দেশের সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও মানবিক সংগঠনগুলোর কাছে সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন—যাতে তিনি একটা ছোট ব্যবসা শুরু করে নিজের পরিবারকে নিয়ে সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে পারেন।

Facebook Comments Box


এ জাতীয় আরো সংবাদ