শিরোনাম :
তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে প্রধান শিক্ষক গ্রেফতার কৃষকদের জীবন মান উন্নয়নে বিএনপি সরকার বদ্ধ পরিকর কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণ অনুষ্ঠানে এমপি মান্নান ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগরে ছোট বড় নদীগুলোর নাব্যতা সংকটে বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় প্রজাতির মৎস্য সম্পদ বিলুপ্তির পথে ২০০ বছরের ঐতিহ্য নৌকা শিল্প (১-১২)তম নিবন্ধনধারীদের ফাইল মন্ত্রণালয় থেকে এনটিআরসিএতে ধান মাড়াই মেশিনে নবীনগরে শ্রমিকের হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন টানটান উত্তেজনার ফাইনাল, দর্শকদের হৃদয় জিতে নিল দুই দলই দেবীগঞ্জে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা কলেজ ছাত্র গ্রেফতার। ‎বাবা কোথায়?” ৩ বছরের শিশুর আর্তনাদ, খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সিলেটে হাজারো মানুষের মানববন্ধন সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত নোয়াখালীর ফরহাদ, আইসিইউতে ২
রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ০২:৫৭ অপরাহ্ন

অবহেলায় হারিয়ে যাচ্ছে সম্ভাবনা: দৃষ্টিহীন শফিকুলের টিকে থাকার যুদ্ধ

প্রতিনিধির নাম / ২২৯ বার
আপডেট : শনিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২৫

অবহেলায় হারিয়ে যাচ্ছে সম্ভাবনা: দৃষ্টিহীন শফিকুলের টিকে থাকার যুদ্ধ

মো বিল্লাল হোসেন :
গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার আরপি গেইট বাজারে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মো. শফিকুল ইসলাম (৪৮) প্রতিদিন কলস দিয়ে পানি টেনে জীবিকা নির্বাহ করছেন। দুই চোখে দৃষ্টিশক্তি হারালেও থেমে যায়নি তার জীবনযুদ্ধ। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে তিনি পরিচিত “মন্ত্রী” নামে।সবাই তাকে মন্ত্রী বলেই ডাকে।

পরিবারে রয়েছেন স্ত্রী সাবিনা খাতুন (৪০), যিনি একটি গার্মেন্টসে কাজ করেন। বড় ছেলে সাকিব (২০) বেকার এবং ছোট মেয়ে লামিয়া খাতুন (১৫) নবম শ্রেণির ছাত্রী। সংসারের সব খরচই চলছে শফিকুল ও তার স্ত্রীর সামান্য উপার্জনে।

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শফিকুল জানান, প্রতিদিন কলস ভরে পানি বয়ে চা দোকানে সরবরাহ করেন। প্রতি কলস পানির জন্য তিনি পান মাত্র ৫ টাকা। সারাদিন কাজ করলে আয় হয় মাত্র ৭০–৯০ টাকা। এতে পরিবার চালানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, “কাজ থাকলে টাকা পাই, কাজ না থাকলে কিছুই থাকে না। যদি আমাকে ছোট কোনো ব্যবসা করার মতো সহযোগিতা করা হতো, তবে পরিবার নিয়ে স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকতে পারতাম।”

তার ডান চোখ সম্পূর্ণ অন্ধ। বাম চোখে কেবল কাছের জিনিস সামান্য দেখা যায়। রাতে চলাফেরাও তার পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ে।

আরপি গেইট বাজারের রোমানা হার্ডওয়্যারের স্বত্বাধিকারী সাত্তার মোল্লাহ বলেন, “শফিকুল অত্যন্ত সৎ ও পরিশ্রমী। কিন্তু চোখের সমস্যার কারণে সন্ধ্যার আগেই তাকে কাজ বাদ দিয়ে বাড়ি ফিরে যেতে হয়।”

ইসলামীয়া ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী রাকিব জানান, “বহু বছর ধরে তাকে সততার সঙ্গে পানি টানতে দেখছি। বাজারের সবাই তাকে ভালোবাসে এবং প্রয়োজনীয় কাজও তাকে দিয়ে করান।”

নিয়মিত আয়ের নিশ্চয়তা না থাকায় শফিকুল মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন। পরিবার ও সমাজের কাছে হেয় হয়ে থাকতে হচ্ছে তাকে।

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শফিকুল ইসলাম দেশের সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও মানবিক সংগঠনগুলোর কাছে সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন—যাতে তিনি একটা ছোট ব্যবসা শুরু করে নিজের পরিবারকে নিয়ে সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে পারেন।

Facebook Comments Box


এ জাতীয় আরো সংবাদ