ঠাকুরগাঁও জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা রাণীশংকৈল এ অবস্থিত টেলিফোন অফিস বর্তমানে কার্যত অচল। স্বাধীনতার পরপর স্থাপিত এসব অফিস একসময় ছিল সরকারি যোগাযোগের প্রাণ কেন্দ্র। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আধুনিকায়নের অভাবে তা আজ পরিণত হয়েছে অবহেলিত ভবনে। রাণীশংকৈল কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত বর্তমানে নেই চলমান সেবা। ল্যান্ড লাইন সংযোগ চালু নেই। পূর্বে চালু থাকা কিছু সংযোগ দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় তা বাতিল। অফিসে নিয়োগ প্রাপ্ত টেকনিশিয়ান থাকলেও তার কোন কাজ নেই। মাসের পর মাস ঝুলছে অফিসে তালা। অফিস ভবন জরাজীর্ণ, দেওয়াল চিড়া। ইন্টারনেট সংযোগ নেই থাকলেও অকার্যকর। সহকারী অফিসে আন্ত যোগাযোগ সমস্যা। দূরবর্তী অঞ্চলের সাধারণ মানুষ সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত। ইন্টারনেট সুবিধা না থাকায় গভর্নেন্স বা ডিজিটাল সেবা চালু করা যাচ্ছে না। অবহেলার কারণে সরকারি স্থাপনার অপচয় হচ্ছে। এ বিষয়ে স্থানীয়দের মতামতে জানা যায়, আমরা কখনো টেলিফোন অফিস চালু অবস্থায় দেখিনি। শুধু বিল্ডিংটা দেখে মনে হয় এখানে কিছু একটা ছিল। জরুরী ভিত্তিতে টেলিফোন অফিসগুলো সংস্কার করা ব্রডব্যান্ড বা ফাইবার অপটিক ইন্টারনেট সংযোগে স্থাপন ও উপজেলা পর্যায়ে অন্তত সরকারি অফিসগুলোর মাঝে আন্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু রাখা অত্যন্ত জরুরী। উপজেলা পর্যায়ে অন্তত সরকারি অফিস গুলোর মাঝে আন্ত: যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু রাখা দরকার বলে মনে করেন স্থানীয় অভিজ্ঞ মহল। বর্তমান সময়ে মোবাইল ও ইন্টারনেট সেবা সহজলভ্য হলেও সরকারি ডক্টর ও দুর্যোগ কালীন সময়ে ল্যান্ড লাইন ও টেলিফোন অফিসের গুরুত্ব অস্বীকার করা যায় না। তাই এই অবহেলিত টেলিফোন অফিসগুলো প্রতি সরকারের নজর দেওয়া এখন সময়ের দাবি। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে উপজেলা পর্যায়ে আধুনিক টেলিকম সেবা নিশ্চিত করাই হোক সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ।