শিরোনাম :
কক্সবাজারে প্রাইভেটকারের নিচে ৮৯ হাজার ইয়াবা, আটক ১ নবীনগর–বাঞ্ছারামপুর সড়কের উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন আজকের বসুন্ধরার ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও প্রতিনিধি সম্মেলন দালাল ছাড়াই বিদেশে চাকরি, চালু হলো আন্তর্জাতিক জব সাইট ‘রিকুইটো’ দুর্গাপূজায় শান্তি-সম্প্রীতি রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ রাউজান মশকনিধন ও পরিচ্ছন্নতায় সেনবাগে জোরালো উদ্যোগ, পাশে সৈয়দ হারুন ফাউন্ডেশন কাইতলায় আল্লামা সাঈদী (রহ.)-এর স্মরণে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল নদীর বুকে, বন্ধুদের সাথে—গাজীপুর এক্সপ্রেসের নৌকা ভ্রমণে ০৫০৭ ব্যাচের মিলনমেলা নবীনগরে কৃষক, মাঝি ও জেলেদের শত্রু কচুরিপানা ! নবীনগরের আহমদ পুরে চারশো বছর ধরে টিকে আছে শৈল্পিক কারুকাজ খচিত মসজিদ
বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৫ পূর্বাহ্ন

না ফেরার দেশে চলে গেলেন চলচ্চিত্র পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান

প্রতিনিধির নাম / ২০৯০ বার
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

জীবনসঙ্গীকে হারিয়ে শোকে কাতর ছিলেন ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ নির্মাতা সোহানুর রহমান সোহান। সোহানের স্ত্রী প্রিয়া রহমান মস্তিস্কে রক্তক্ষরণে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মারা গেছেন। স্ত্রীর মৃত্যুর ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে সোহানও চলে গেলেন। আজ বুধবার বিকেলে উত্তরার বাসায় ঘুমিয়ে ছিলেন সোহান, অনেক ডাকাডাকি করেও তাঁর সাড়া পাননি গৃহকর্মী। পরে অচেতন অবস্থায় সন্ধ্যা ৬টা ৪৪ মিনিটে উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতালে নেওয়া হয় তাঁকে।
হাসপাতালে নেওয়ার আগে ঘুমের মধ্যেই সোহানের মৃত্যু হয়েছে বলে জানান হাসপাতালের মেডিকেল কর্মকর্তা তানভীর ইসলাম। সোহানের বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন। তবে সোহানের মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে পারেননি চিকিৎসকেরা। মৃত্যুকালে তিনি দুই মেয়েকে রেখে গেছেন।

সোহানের মৃত্যুর খবরে ঢাকাই সিনেমার পরিচালক, শিল্পীরা হাসপাতালে ভিড় করেন। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সাবেক সভাপতি ছিলেন তিনি। চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি কাজী হায়াৎ, মহাসচিব শাহীন সুমন, প্রযোজক খোরশেদ আলমসহ আরও অনেকে শোক জানিয়েছেন।
সোহানের মরদেহ উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতালে হিমঘরে রাখা হয়েছে। সোহানের স্ত্রী প্রিয়া রহমানকে টাঙ্গাইলে শ্বশুরবাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করা হয়েছে। স্ত্রীর কবরের পাশেই তাঁকে সমাহিত করার ইচ্ছাপোষণ করে গেছেন সোহান। তবে দাফনের বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

সোহানুর রহমান সোহান তাঁর ক্যারিয়ার শুরু করেন নির্মাতা শিবলী সাদিকের সহকারী পরিচালক হিসেবে। সেটা ১৯৭৭ সালের কথা। এরপর তিনি শহীদুল হক খানের ‘কলমিলতা’ (১৯৮১), এজে মিন্টুর ‘অশান্তি’ (১৯৮৬) ও শিবলী সাদিকের ‘ভেজা চোখ’ (১৯৮৮) সিনেমাগুলোতে সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন।
প্রধান নির্মাতা হিসেবে সোহানুর রহমান সোহান আত্মপ্রকাশ করেন ১৯৮৮ সালে। তাঁর পরিচালিত প্রথম সিনেমা ‘বিশ্বাস অবিশ্বাস’। তবে তিনি সাফল্য পান ১৯৯৩ সালে। সিনেমার নাম ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’। এই সিনেমার মাধ্যমে সিনেমায় আত্মপ্রকাশ করেন এবং তারকাখ্যাতি পান প্রয়াত নায়ক সালমান শাহ, নায়িকা মৌসুমী ও কণ্ঠশিল্পী আগুন।

সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত অন্যান্য সিনেমাগুলো হচ্ছে ‘আমার দেশ আমার প্রেম’, ‘স্বজন’, ‘আমার ঘর আমার বেহেশত’, ‘অনন্ত ভালোবাসা’, ‘স্বামী ছিনতাই’, ‘আমার জান আমার প্রাণ’, ‘পরাণ যায় জ্বলিয়া রে’, ‘কোটি টাকার প্রেম’, ‘সে আমার মন কেড়েছে’, ‘দ্য স্পিড’ ও ‘লোভে পাপ পাপে মৃত্যু’ ইত্যাদি। সোহানের ‘অনন্ত ভালোবাসা’ সিনেমার মাধ্যমেই আত্মপ্রকাশ করেছিলেন চিত্রনায়ক শাকিব খান। বর্তমানে যিনি ঢালিউডের শীর্ষ তারকা।
১৯৬০ সালের ১৫ অক্টোবর বগুড়ার ফুলবাড়ীতে জন্মগ্রহণ করে সোহান। বগুড়া ও জয়পুরহাটে স্কুল ও কলেজজীবন শেষে ঢাকায় আসেন তিনি। পড়াশোনা করেছেন ঢাকার সিদ্ধেশ্বরী কলেজে।

 

Facebook Comments Box


এ জাতীয় আরো সংবাদ