ভালোবেসে বিয়ে করে নাহিদা স্বামীর ভিটা থেকে লাশ হয়ে ফিরলেন বাবার বাড়ী
মোঃখলিলুর রহমান খলিলঃব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার লাউর ফতেহপুর ইউনিয়নের কলেজ ছাত্রীর মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন হওয়ার আগেই আবার লাউর ফতেহপুর থেকে নাহিদা আক্তার (২২) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে নবীনগর থানা পুলিশ।
এ ঘটনায় স্বামীসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে নিহতের মা মিনুয়ারা বেগম বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখ করে গত ৩০ /০৩/২৬ রবিবার নবীনগর থানায় আত্মাহত্যার প্ররোচনার মামলা করেন । আমলার ১নং আসামী তানভীর,২নং আসামী আতিকুল হক শিশু,৩নং আসামি মোঃ তাহের। পুলিশ নিহতের মরদেহ থানা হেফজতে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে ময়নাতদন্তে শেষে নিহতের বাবার বাড়ী ভাঙ্গরা বাজার থানার গাঙ্গেরকোট টানচড়া পারিবারিক কবরস্থানে ৩০শে মে সোমবার বিকাল পাচটায় জানাজা শেষে দাফন করা হয়।
নিহত গৃহবধূ নাহিদা আক্তারের মা মিনুয়ারা বলেন, পাঁচ বছর আগে নবীনগর উপজেলার লাউর ফতেপুর গ্রামের শিশু মিয়ার ছেলে তানভীর আহমেদের সঙ্গে আমার মেয়ে প্রেম করে কোর্ট মেরেজ করেন।আমার স্বামী মৃত খলিলুর রহমান, আমার মেয়েকে প্রায়সময় মেয়ের জামাই তানভীর নির্যাতন করতো।
গত ২৯শে মার্চ রবিবার সকাল ১১টায় আমার বাড়ী থেকে মেয়ের জামাই জোর করে নাহিদাকে নিয়ে যায়।রাত সাড়ে আটটায় আমার নিকট ফোন করে তানভীরের বাবা আতিকুল হক শিশু মিয়া জানান আমার মেয়ে গলায় ফাঁস দিয়েছেন, আমি আত্নীয় স্বজন নিয়ে লাউর ফতেহপুর গিয়ে বিছানায় মেয়ের লাশ দেখতে পায়, আমার মেয়ের সারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, বাড়ীতে তানভীরও তার বাবা সহ কাউকে পায়নি।আমি যাওয়ার পর পুলিশ আসে, আমার মেয়ে আত্মহত্যা করে থাকলে ঝুলন্ত অবস্থায় কেন রাখা হলো না, আমার ছোট নাতি শাহাদাত চার বছরের বাচ্চা তাকে নিয়ে কেন পলাতক? পুলিশ এতো আঘাতের চিহ্ন থাকার পরও ঝুলন্ত অবস্থায় না দেখেও কেন আত্মহত্যার প্ররোচনায় মামলা নিলেন আমার বুঝে আসছে না,আমার চার বছরের নাতি শাহাদাতকে উদ্ধার করলে যাবতীয় তথ্য তাঁর নিকট থেকে পাওয়া যাবে।
ঘটনার পর নাহিদার শুশ্বর যে নাম্বার দিয়ে নাহিতার মাকে কল করেন সে নাম্বারটিও শিশু মিয়া নিজে সর্বদা ব্যবহার করেন না তাছাড়া তানভীর ও শিশুমিয়ার নিয়মিত নাম্বারও ঘটনার পর থেকে বন্ধ। এ বিষয়ে কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তানভীরের বাড়ীতে গিয়েও তালাবদ্ধ পাওয়া যায়।তানভীরের চাচাতো ভাবী ফারহানা আক্তার সিমা বলেন আমি চিল্লা চিল্লির আওয়াজ পায় আমি ঝুলন্ত অবস্থায় দেখি নাই।
নবীনগর থানার ওসি (তদন্ত)রাজীব কান্তি নাথ বলেন, “নবীনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিছানায় লাশ দেখতে পায়, ঝুলন্ত অবস্থায় লাশ ছিলো না, ঘটনাটি সন্দেহাতীত মনে হওয়ায় অপমৃত্যুর মামলা না নিয়ে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা নিয়েছি,আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।,লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তীতে আইনানুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) এস আই মনির বলেন, ” আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে লাশের গলায় দাগ দেখেছি তবে আশেপাশের প্রতিবেশীদের নিকট জানতে পারি প্রায় সময় নাহিদাকে নির্যাতন করতো। “