শিরোনাম :
ভালোবেসে বিয়ে করে নাহিদা স্বামীর ভিটা থেকে লাশ হয়ে ফিরলেন বাবার বাড়ী নৈশপ্রহরী ও পিয়ন যখন কলেজের হর্তাকর্তা ! দেড়শো বছরের ব্রাহ্মণবাড়ির নবীনগর আদালত পুকুর বিলুপ্তপ্রায়! আলমনগর ফজলুর রহমান মহুরী স্মৃতিবৃত্তি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত আলমনগর ফজলুর রহমান মহুরী স্মৃতিবৃত্তি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত নবীনগরে প্রবাসীদের উদ্যোগে’ ঈদ উপলক্ষে গরীব অসহায় এবং দুস্হ পরিবারের মাঝে মাংস বিতরণ। রতনপুর ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়নে নিজেকে উৎসর্গ করতে চাই -মোঃ ওবায়েদ উল্লাহ অবিদ নবীনগর নিউ মডেল প্রেস ক্লাবের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত জনপ্রিয়তার শীর্ষে বীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন ক্যাপ্টেন সৈয়াদ আবু আহাদ ফাউন্ডেশন কর্তৃক ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত
মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৫৩ পূর্বাহ্ন

নৈশপ্রহরী ও পিয়ন যখন কলেজের হর্তাকর্তা !

প্রতিনিধির নাম / ৪৮ বার
আপডেট : মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬

 

মোঃখলিলুর রহমান খলিলঃতিতাস মেঘনার কোলে পরম মমতায় লালিত শিক্ষা, শিল্প-সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে গৌরবান্বিত এক প্রাচীন নান্দনিক জনপদ নবীনগর। নবীনগর উপজেলা সদরে অবস্থিত একমাত্র সরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান নবীনগর সরকারি কলেজ ১৯৬৯সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। আঞ্চলিক স্বকীয়তা ও মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে প্রতিষ্ঠানটি যুগ যুগ ধরে ভাটি অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রতিনিয়ত জ্ঞানের আলো বিতরণ করার মাধ্যমে ১৯৮৫ সালে সরকারিকরণ করা হয়। বরেণ্য মানুষের পদচারণা ও খ্যাতিমান ব্যাক্তিত্ব বিনির্মাণে প্রতিষ্ঠানটি স্বমহিমায় প্রোজ্জ্বল হলেও বিগত অর্ধ যুগ ধরে কলেজ নিয়ে বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না।এতোদিন কলেজের ছাত্রাবাস, লাইব্রেরী ও ছাত্র সংসদ চাঁদা ও কলেজ শিক্ষার্থীদের ক্রিয়ার কক্ষ নিয়ে অভিযোগ থাকলেও এবারের নৈশপ্রহরী ও পিয়নের চাঁদাবাজী বাণিজ্য সব অনিয়মকে পিছনে ফেলেছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগর সরকারি কলেজ এক সময় নবীনগর, মুরাদনগর ও রায়পুরার অঞ্চলের একমাত্র কলেজ ছিল। এই কলেজটির সুনাম ছিল দেশব্যাপি। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে কলেজের শিক্ষার মান অনেকাংশে ম্লান হয়েছে। ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েও এই কলেজ এখন নবীনগরের নতুন কলেজ গুলোর সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারছে না এরই মধ্যে খবর এসেছে কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের টেস্ট পরীক্ষায় পাস করানোর দায়িত্ব পালন করেন নৈশপ্রহরী ও পিয়ন। নৈশপ্রহরী ও পিয়ন কলেজের শিক্ষার্থীদের নিকট এমন ভাব দেখায় যেন তারাই কলেজের হর্তাকর্তা। তারাই যেন ইচ্ছে করলে উলটপালট করতে পারেন কলেজের নিয়মকানুন এই ভাব দেখিয়ে কলেজের শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে হাতিয়ে নিয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকা।
কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকের বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার একাধিক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে টেস্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ করা সহ ফরম পূরণের যাবতীয় কার্যক্রম সম্পাদন করার প্রলোভন দেখিয়ে লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কলেজের অফিস সহায়ক রাজীব আহামেদ ও নৈশপ্রহরী সামিম মিয়ার বিরুদ্ধে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ,টেস্ট পরীক্ষায় খাতায় না লেখেও উত্তীর্ণ করে দেওয়া হবে ও এইচএসসি বোর্ড পরীক্ষার ফরম পূরণ করে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে অফিস সহায়ক রাজীব আহামেদ দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ গ্রহণ করেন।কিন্তু টেস্ট পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ফরম পূরণ করতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা চরম বিপাকে পড়েন শিক্ষার্থীদের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার অবস্থা।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের দাবি, অফিস সহায়ক রাজীব আহামেদ ও নৈশপ্রহরী সামিম মিয়ার যোগসাজশে বিভিন্ন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে আলাদা আলাদা অঙ্কের অর্থ নেওয়া হয়েছে এবং মোট অর্থের পরিমাণ কয়েক লাখ টাকায় পৌঁছেছে। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও হতাশা বিরাজ করছে।

এদিকে অভিযুক্ত অফিস সহায়ক রাজীব আহামেদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘নৈশপ্রহরী সামিম ভাই আমাকে বলেছেন কিছু শিক্ষার্থী পাস করানোর জন্য তার কাছে নিয়ে যেতে। পরে আমি প্রায় ১০ জন শিক্ষার্থীকে তার কাছে নিয়ে যাই। তখন তিনি তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন।’

অভিযুক্ত নৈশপ্রহরী সামিম মিয়ার সাথ মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

নবীনগর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ একে.এম রেজাউল করিম বলেন,” আমি ঘটনাটি শুনেছি এবং রসায়ন বিভাগের প্রফেসর সাইদুল ইসলাম খানকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আমার কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাবার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

Facebook Comments Box


এ জাতীয় আরো সংবাদ