মোঃখলিলুর রহমান খলিলঃব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বালু মহল যেন অবৈধ ভাবে টাকা উত্তোলনের স্বর্গরাজ্য।নবীনগর উপজেলার শ্যামগ্রাম ইউনিয়নের নাছিরাবাদ নামক স্থানে মেঘনা নদী থেকে বালু উত্তোলনের ইজারা দিলেও মূলত ইজারাদাররা অবৈধভাবে সীমানা লঙ্ঘন করে বালু উত্তোলন করে আসছে দুই কিলোমিটার উত্তরে নবীনগর পশ্চিম ইউনিয়নের চরলাপাং গ্রামের বোরো ধানের জমি কেটে। দীর্ঘ ছয়মাস যাবৎ চলছে এভাবে বালু ডাকাতি,প্রাণনাশের ভয়ে এতোদিন নিরবে নিবৃতে সহ্য করে গেলেও এখন চরলাপাং গ্রামের ধানের জমি কেটে বালু উত্তোলন করায় কৃষকদের সারা বছরের ঘরের পেটের চালের উপর আঘাত আসায় অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনে বাধা প্রদান করেন সম্মিলিত এলাকাবাসী।বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে রবিবার কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি ২০ জন আহত হয়েছেন।
উপজেলার চরলাপাং গ্রামে ২২শে ফেব্রুয়ারী রোজ রবিবার সকালে ‘বালু সন্ত্রাসী’রা এ হামলা চালায় বলে অভিযাগ করেন স্থানীয়রা।
গ্রামবাসী বলেন সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করতে যায় একদল ‘বালু সন্ত্রাসী’। গ্রামবাসী এর প্রতিবাদ করতে গেলে পার্শ্ববর্তী রায়পুরা উপজেলার মির্জাচর এলাকা থেকে স্পিডবোট ও নৌকায় আসা লোকজন তাদের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি চালায়।
স্থানীয়রা জানান, গুলিতে রুপ মিয়া, ইব্রাহিম, নুরুন্নবী, জসিম, সিয়াম, আলী হোসেন, শাখাওয়াত হোসেনসহ আরও অনেকে আহত হন, যাদের নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।
ঘটনার পর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নবীনগর সার্কেল) পিয়াস বসাক এবং নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে যান। পুলিশ মোতায়েন করা হলেও এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
নুরুল আমিন, রুপ মিয়া, আলী নেওয়াজ, জসিম মিয়া, জামাল মিয়া, তৌহিদ মিয়া, জামাল হোসেন মিয়ারা জানান শাখাওয়াত হোসেন পায়েল নামে পরিচিত একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। সরকারি ইজারা পাওয়া ‘মেসার্স সামিউল ট্রেডার্স’নামের প্রতিষ্ঠানের আড়ালে এ কর্মকাণ্ড পরিচালনা হচ্ছে।
বালু উত্তোলনে মূলত নবীনগর উপজেলা সদরের বিএনপি নেতা, চরলাপাং গ্রামের কিছু শালিশকারক পিছনে থেকে কমিশনের বিনিময়ে সহযোগিতা করে থাকে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।
তাদের অভিযোগ, প্রতিবাদ করলে গুলি, হামলা ও ভয়ভীতি দেখায় সিন্ডিকেটটি। লাগামহীন বালু উত্তোলনের কারণে নদীর তীর ভেঙে যাচ্ছে। বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে অসংখ্য পরিবার।
এ বিষয়ে সামিউল ট্রেডার্সের মালিক শাখাওয়াত হোসাত পায়েলের নিকট এলাকাবাসী ও সাংবাদিক কোন বিষয় না।সে অবৈধ অস্ত্রের জোরে কোন কিছুকে পাত্তা দেয়না বলে চরলাপাং বাসী বলেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদুল হাসান জানান, খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, “আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
নবীনগর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে কৃষিজমি ভাঙনের মুখে পড়ছিল। গ্রামবাসী বাধা দিতে গেলে তাদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হলে অনেকেই আহত হন।
তিনি আরও জানান, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে এবং এরই মধ্যে কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ তথা নবীনগর আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান হুঁশিয়ার করে বলেন, বালু মহালের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। প্রশাসনকে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চরলাপাং গ্রামের লোকজন বলেন আমাদের এমপি সাহেব নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করবেন আমরা আশা করি তিনি এই কথার বাস্তবায়ন করবেন।।