শিরোনাম :
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৫ নবীনগর আসনে লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি নবীনগর পূর্বাঞ্চল ৬ ইউনিয়নের সমন্বয়ে ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী এডভোকেট এম এ মান্নানের নির্বাচনী সভা অনুষ্ঠিত মুফতী আমজাদ হোসাইন আশরাফীর নির্বাচনী সভা অনুষ্ঠিত নিরাপদ ও উন্নয়ন বান্ধব নবীনগর গঠনের লক্ষ্যে নজুকে আপনাদের হাতে তুলে দিলাম- পীর সাহেব চরমোনাই বাঞ্ছারামপুরে বিএনপি-সমর্থিত জোট প্রার্থীর নির্বাচনী পথসভা ও দোয়া মাহফিল চকরিয়ায় যৌথ বাহিনী অভিযানে অস্ত্র,কার্তুজসহ যুবক আটক নোয়াখালীতে বিএনপির নেতাকর্মিদের মিথ্যা হত্যা মামলায় জড়ানোর প্রতিবাদে মানববন্ধন জাতীয় সাংবাদিক ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ (জেএসএফবি) নির্বাচনে সভাপতি ফারুক সম্পাদক রুবেল সেনবাগে প্রবাসী কল্যাণ সংস্থার নতুন কার্যালয়ের উদ্বোধন গাজীপুরে ‘SSC 2005 & HSC 2007’ ফেসবুক গ্রুপের নবম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন
শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০১:৫৭ পূর্বাহ্ন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৫ নবীনগর আসনে লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি

প্রতিনিধির নাম / ৭২ বার
আপডেট : শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
Oplus_131072

89

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৫ নবীনগর আসনে লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি

মোঃ খলিলুর রহমান খলিল বিশেষপ্রতিনিধিঃত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদীয় আসন-২৪৭ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর ৫ আসনে ভোটার বেড়েছে চল্লিশ হাজারের অধিক।
দ্বাদশ সংসদের তুলনায় এবার বেড়েছে ৫টি কেন্দ্র। ফলে বর্তমান কেন্দ্র সংখ্যা ১৫৪ টি। ভোটার সংখ্যা চার লাখ ৭৪ হাজার ৮২৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার দুই লাখ ২৬হাজার ৭৩৬ জন, নারী ভোটার দুই লাখ সাত হাজার ৮৬৭জন এবং তৃতীয় লিঙ্গ (হিজড়া) চারজন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৫ নবীনগর আসনে স্বাধীনতা উত্তর সময়ে ১২টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবীনগর আসনে নৌকা প্রতিক নির্বাচিত হয়েছে ৬ বার,ধানের শীষ প্রতিক নির্বাচিত হয়েছে ৩ বার, লাঙ্গল প্রতীক নির্বাচিত হয়েছে তিন বার।

১৯৭৩ সালে ১ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কাজী আকবর উদ্দিন সিদ্দিক আওয়ামীলীগ থেকে নৌকা প্রতিকে, ১৯৭৬ হাবিবুল্লাহ খান বিএনপি থেকে ধানের শীষ প্রতিকে,১৯৮৬ কাজী মো. আনোয়ার হোসেন জাতীয় পার্টি থেকে লাঙ্গল প্রতীকে,১৯৮৮ সালে কাজী মো. আনোয়ার হোসেন জাতীয় পার্টি থেকে লাঙ্গল প্রতীকে,১৯৯১ কাজী মো. আনোয়ার হোসেন জাতীয় পার্টি থেকে লাঙ্গল প্রতীকে, ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ অল্প সময়ের স্থায়ী মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে ধানের শীষ প্রতিকে, ১৯৯৬সালে আব্দুল লতিফ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে নৌকা প্রতিকে, ২০০১ কাজী মো. আনোয়ার হোসেন চার দলীয় ঐক্যজোট থেকে ধানের শীষ প্রতিকে,২০০৮ শাহ জিকরুল আহমেদ জাসদ(মহাজোট) থেকে নৌকা প্রতিকে, ২০১৪ সালে ফয়জুর রহমান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে নৌকা প্রতিকে, ২০১৮সালে এবাদুল করিম বুলবুল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে নৌকা প্রতিকে ও ২০২৪ সালে ফয়জুর রহমান বাদল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে নৌকা প্রতিকে নির্বাচিত হন।

প্রতিটি সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনীত প্রার্থী জয় লাভ করেছেন, নবীনগরের ইতিহাসে কোন স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী প্রার্থী জয় লাভ করতে পারে নাই, তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নেই বলে বিএনপির প্রার্থী সহজে জয় লাভ করবে এমন ধারণা থাকলেও নির্বাচনে তৃণমূলের নিকট জনপ্রিয় বিএনপি নেতা কাজী নাজমুল হোসেন তাপস স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় বিএনপির জয় লাভ করবে সহজে এমনটা ধারণা এখন আর করছে না নবীনগরের সাধারণ জনগণ। নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের অংশ গ্রহন না থাকায় কাস্টিং ভোট কম হবে বলে মনে হচ্ছে, সব মিলিয়ে লড়াই যেহেতু চারজন প্রার্থীর মধ্যে ভোটার উপস্থিতি ৪০% মতো হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সাধারণ জনগন মনে করেন নির্বাচনে হবে নবী প্রবীনের লড়াই, এডভোকেট এম এ মান্নান ব্যতিত বাকি সব প্রার্থীরা বয়সে তরুন। অভিজ্ঞতার নিকট তারুণ্য হার মানে, নাকি তারুণ্যের নিকট অভিজ্ঞতা হার মানে তাঁর জন্য অপেক্ষা করতে হবে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে।বিশেষ করে এম এ মান্নান, কাজী নাজমুল হোসেন তাপস, মুফতি আমজাদ হোসেন আশরাফী ও নজরুল ইসলাম নজুর সমর্থকরা নিজেদের প্রার্থী জয় লাভ করবে বলে মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন।এই চার প্রার্থী মাঠেও কার্যক্রম পরিচালনা করছেন সমান তালে।
চারজন প্রার্থীর ভৌগলিক অবস্থান ও নবীনগরের ভিন্ন ভিন্ন এলাকায়। ধানের শীষ – এডভোকেট এম এ মান্নান – নবীনগর সদর, নবীনগর পশ্চিম, শিবপুর, শ্রীরামপুর ও ইব্রাহিমপুর – এই পাঁচ ইউনিয়নে নিজের পার্শ্ববর্তী এলাকা হওয়ায় এগিয়ে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
কাজী নাজমুল হোসেন তাপস( ফুটবল) – রতনপুর,সাতমোড়া, শ্যামগ্রাম, বড়িকান্দি ও সলিমগঞ্জ নিজের এলাকার পার্শ্ববর্তী হওয়ায় এগিয়ে থাকবেন এমনটাই সাধারণ জনগণের সাথে কথা বলে জানা গিয়েছে।
আমজাদ হোসেন আশরাফী ( রিকশা) – কৃষ্ণ নগর, বীরগাঁও ও বড়াইল ইউনিয়নে এগিয়ে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
নজরুল ইসলাম নজু (হাতপাখা) – লাউর ফতেহপুর, জিনোদপুর, ইব্রাহিমপুর ও বিটঘর ইউনিয়নে এগিয়ে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাকি ৬ টি ইউনিয়ন কাইতলা উত্তর,কাইতলা দক্ষিণ, , রসুল্লাবাদ, নবীনগর পূর্ব, বিদ্যাকোটও নাটঘর ইউনিয়নের ভোটের উপর নির্ভর করবে প্রার্থীর জয় পরাজয় তবে প্রার্থীদের নিজের ইউনিয়নের ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও জয়ী হওয়ার পথে অনেকাংশেই এগিয়ে থাকবে।
বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতায় নির্বাচন করছে মোট ১১টি দল – গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি), ইসলামী ঐক্যজোট, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম), বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, নাগরিক ঐক্য, গণসংহতি আন্দোলন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, বাংলাদেশ এলডিপি ও বাংলাদেশ জাতীয় দল।
নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে সমমনা ১০টি দলের কোন নেতা কর্মী মাঠে প্রচার প্রচারণা করার কোন কার্যক্রম তেমন দেখা যাচ্ছে না।বরং গণ সংহতির প্রার্থী নাহিদা ইসলাম মাথাল মার্কা নিয়ে নবীনগর আসনে নির্বাচন করছেন অথচ জোটের স্বার্থে গণসংহতি আন্দোলন ( জি এস এ) কে নবীনগরের পার্শ্ববর্তী ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৬ বাঞ্ছারামপুর আসন বিএনপি ছাড় দিয়েছেন ও ধানের শীষের প্রতিক দিয়েছেন । তবে তথ্য নিয়ে জানা যায় এই এগারো দলের মধ্যে দুই চারটি দলের কমিটি ও অফিস নবীনগরে থাকলেও বাকি দল গুলোর কমিটি বা অফিস নবীনগরে নেই।

নবীনগর আসনে নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী নাজমুল হোসেন তাপস ইতিমধ্যে নবীনগরে নিজের অবস্থান জানান দিয়েছেন।বহিষ্কার আদেশ মপনে নিয়ে তিনি ফুটবল প্রতীকে নির্বাচন করছেন। নবীনগরের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও উপজেলা বিএনপির অনেক নেতৃবৃন্দ তার নির্বাচন করছেন,বিশেষ করে পৌর বিএনপির সাবেক আহবায়ক আবু সায়েদ,সাধারণ সম্পাদক হাজী শাহাবুদ্দীন, সাবেক পৌর মেয়র মাইনু উদ্দিন মাইনু, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সফিকুর রহমান সরাসরি ফুটবল প্রতীকে নির্বাচনে সমর্থন দিচ্ছেন, এতে করে তাপস নির্বাচনী লড়াইয়ে সমান তালে এগিয়ে যাচ্ছেন।

অপর দিকে বাংবাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে দশ দলীয় জোটের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস,খেলাফত মজলিস,বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন,বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি
বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি,জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি,জাতীয় নাগরিক পার্টি, এবি পার্টি ও এলডিপি।

এই নির্বাচনী জোটের প্রার্থী হয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রিকশা প্রতীক নিয়ে মুফতি আমজাদ হৌসাইন আশরাফী। তাকে সমর্থন দিয়ে ইতিমধ্যে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণায় সরাসরি অংশগ্রহণ শুরু করেছেন জামায়াতে ইসলামী,খেলাফত মজলিসের নেতৃবৃন্দ।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় নবীনগরে বাংলাদেশ নেজামী ইসলাম পার্টি, এলডিপি,বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি, গণতান্ত্রিক পার্টি ও এবি পার্টির নবীনগরে কোন রকম কমিটি ও অফিস নেই।

ইসলামী আন্দোলন থেকে হাতপাখা প্রতীকে নির্বাচনে লড়ছেন নজরুল ইসলাম নজু।নজরুল ইসলাম নজু নবীনগরে গণ অধিকার পরিষদের সাথে সখ্যতা থাকায় ও হেফাজত ইসলামের নেতা কর্মীদের সমন্বয়ে শক্ত অবস্থান তৈরি করছেন । সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জিয়াউল হক সরকার ও ভাইস চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান নজুর সমর্থনে সরাসরি অংশগ্রহণ করছেন, এজন্য নজুও নির্বাচনী লড়াইয়ে সমান তালে এগিয়ে যাচ্ছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৫ আসনে বিএনপির দূর্গ দুই দুইভাগে চরম ভাবে বিভক্ত হয়ে আছে।বিএনপি দুইভাগে বিভক্ত হলেও মাঠ জরিপে দেখা গিয়েছে মূলত চতুর্মুখী লড়াই। এই নির্বাচনের মাঠ পর্যায়ে প্রতিবেদনের স্বার্থে জরিপ করে দেখা গিয়েছে ফুটবল প্রতীক ও ধানের শীষের প্রতীকের মধ্যে চরম পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে, এই দুই প্রতীকের সমর্থকরাও একে অপরকে দোষারোপের বাক যুদ্ধ শুরু করেছে।দেড় বছর আগে নাটঘর ইউনিয়ন বিএনপি অফিস ভাঙচুর মামলায় আওয়ামী লীগের অনেক নেতা কর্মী আসামি হলেও অফিসের অস্তিত্ব ও ভাঙচুরের আলামত সংবাদ কর্মীরা পায়নি আবার ঘুরে ফিরে সেই নাটঘর ইউনিয়ন বিএনপি অফিস। গত ২রা জানুয়ারি নাটঘর ইউনিয়ন বিএনপি অফিসের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এবার বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে চলছে দোষারোপের রাজনীতি। এই বিরোধ চরম আকারে পৌছলে বিএনপি শিবির দুভাগে বিভক্ত হলে জয়ের মালা রিকসা প্রতীক বা হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থীর গলায় উঠলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না বলে নবীনগর বাসী মনে করেন।সর্বোপরি নবীনগরে অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের আবাস দেখা যাচ্ছে, প্রশাসন চমৎকার একটি উৎসব মুখর নির্বাচন দিবে বলে নবীনগর বাসী মনে করেন।এতে করে ধানের শীষ, ফুটবল, রিক্সা ও হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থীরা রাতদিন এক করে চালাচ্ছে প্রচার প্রচারণা। শীতের মৌসুম হওয়ায় ওরষ,মাহফিল ও কীর্তনের মতো ধর্মীয় উৎসবে হাজির হয়ে জনগণের নিকট ভোটও চাওয়া যাচ্ছে খুব সহজে।
তাছাড়া লাঙ্গল, মাথাল ও কাস্তে প্রতীকের প্রার্থীরা প্রচার চালাচ্ছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৮৬ নবীনগর আসনের ১৫ টি ভোট কেন্দ্র অধিক ঝুঁকিপূর্ণ, ৯৯টি ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছেন নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

Facebook Comments Box


এ জাতীয় আরো সংবাদ