নবীনগর বাবার শখ পূরণ করতে হেলিকপ্টারে করে বিয়ে করলেন ছেলে!
একই গ্রামে বিয়ে করতে হেলিকপ্টার নিয়ে গেলেন বর।ছোট ছেলের বউকে হেলিকপ্টারে করে বাড়িতে আনবেন শখ ছিলেন মরহুম মনির হোসেনের দীর্ঘদিনের সেই শখ পূরণ করলেন সাউথ আফ্রিকা প্রবাসী মোঃ রাশেদ আহাম্মদ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগর উপজেলার সাতমোড়া ইউনিয়ন বড় শিকানিকা একই গ্রামে বিয়ে
করতে হেলিকপ্টার নিয়ে গেলন সাউথ আফ্রিকা প্রবাসী মোঃ রাশেদ আহম্মদ। ১৮ (জানুয়ারী) দুপুরে বিয়ে শেষে বিকাল দিনটা ৪০ মিনিটে হেলিকপ্টারে করে নতুন বউকে নিয়ে বাড়িতে ফিরেছেন তিনি।
বিকেলে যখন কনেকে নিয়ে হেলিকপ্টারে তার বাড়ির পাশের মাঠে নামে, তখন সেখানে শত শত মানুষের ঢল নামে। একইভাবে বিয়ে শেষ করে কনেকে নিয়ে হেলিকপ্টারে চড়ে বিকেলে বাড়ি ফেরার পর বরযাত্রীরা শুধু নয়, এলাকার শত শত কৌতূহলী বাসিন্দা হেলিকপ্টার ও বর-কনেকে দেখতে মাঠে ভিড় করে।
মোশাররফ হোসেন জানান, আমার ভাই মরহুম মনির হোসেনের শখ ছিল তার ছোট ছেলেকে হেলিকপ্টারে করে বিয়ে করাবে তাই আমার ভাইয়ের শখ পূরণ করতে হেলিকপ্টারে করে বিয়ে করানো হয়।
পাশের বাড়ির কামাল হোসেন মেয়ে মোসাম্মৎ হীরা আক্তারের সঙ্গে বিয়ে হয়। তিনি বিকেলে বাড়ির পাশে মাঠ থেকে হেলিকপ্টারে করে একই গ্রামের মাঠে নামেন।
একই মাঠ থেকে বর হেলিকপ্টারে করে কনের বাড়িতে যান। তার আগেই বরপক্ষের লোকজন কনের বাড়িতে গিয়ে উপস্থিত হন। মধ্যাহ্নভোজের পর বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে কনেকে নিয়ে তিনি হেলিকপ্টারে ওঠেন। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বাড়ির মাঠে নববধূকে নিয়ে অবতরণ করেন। সেখান থেকে বর-কনে হেঁটে মাঠের পাশেই বরের বাড়ীতে যান। বর-কনেসহ হেলিকপ্টারটি ওই মাঠে নামালে উৎসুক এলাকাবাসী সেখানে ভিড় করেন।
সাউথ আফ্রিকা প্রবাসী রাশেদ আহমেদ বলেন, বাবার স্বপ্নকে স্মরণীয় করে রাখতে এবং আমার বাবা তার ছোট ছেলের নববধূকে হেলিকপ্টারে বাড়ীতে নিয়ে আসার ইচ্ছে থেকেই এ ব্যবস্থা করা হয়। হেলিকপ্টারে করে বউ আনতে পেরে তিনিসহ পরিবারের সবাই খুশি। হেলিকপ্টারে চড়ে শ্বশুরবাড়িতে আসতে পেরে নতুন বউও খুব খুশি। তিনিও তার একটি শখ পূরণ করতে পারলেন। তার বিয়ের খবর এলাকার সবার মুখে মুখে হওয়ায় তার কাছেও ভালো লাগছে।
কনের বাড়িতে উপস্থিত উৎসুক এলাকাবাসী বলেন, হেলিকপ্টারে বরযাত্রী আসার বিষয়টি তাঁদের এলাকায় প্রথম। স্থানীয় বাসিন্দারা বিয়ের অনুষ্ঠান খুবই উপভোগ করেছেন। এলাকাবাসী নববধূর নাম দেন ‘হেলিকপ্টার বউ’।