শিরোনাম :
আলমনগর ফজলুর রহমান মহুরী স্মৃতিবৃত্তি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত আলমনগর ফজলুর রহমান মহুরী স্মৃতিবৃত্তি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত নবীনগরে প্রবাসীদের উদ্যোগে’ ঈদ উপলক্ষে গরীব অসহায় এবং দুস্হ পরিবারের মাঝে মাংস বিতরণ। রতনপুর ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়নে নিজেকে উৎসর্গ করতে চাই -মোঃ ওবায়েদ উল্লাহ অবিদ নবীনগর নিউ মডেল প্রেস ক্লাবের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত জনপ্রিয়তার শীর্ষে বীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন ক্যাপ্টেন সৈয়াদ আবু আহাদ ফাউন্ডেশন কর্তৃক ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের শিক্ষা ও অবকাঠামো উন্নয়নে ভূমিকা রাখবো -মির্জা সালাউদ্দিন সবুজ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন মেঠোপথের কার্যালয়ে ইফতার ও দোয়ার মাহফিল অনুষ্ঠিত ‎আলমনগর ঐক্য ফোরামের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত
বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ০৫:৩৯ অপরাহ্ন

গোলাপজল প্রসাধনী ও খাবার হিসেবে কতটুকু উপকারী বা ক্ষতিকর!

প্রতিনিধির নাম / ১৭৩ বার
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী, ২০২৬
Oplus_131072

গোলাপজল প্রসাধনী ও খাবার হিসেবে কতটুকু উপকারী বা ক্ষতিকর!

মোঃখলিলুর রহমান খলিলঃ গোলাপজল হলো গোলাপের পাপড়ি থেকে তৈরি সুগন্ধিযুক্ত জল, যা ত্বকের টোনার, ময়েশ্চারাইজার হিসেবে এবং রান্নাবান্না ও ওষুধে ব্যবহৃত হয়; এটি ত্বককে সতেজ ও উজ্জ্বল করে, পিএইচ ভারসাম্য বজায় রাখে, প্রদাহ কমায় এবং মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। ঘরেই গোলাপের পাপড়ি ও জল মিশিয়ে এটি তৈরি করা যায়, যা প্রাকৃতিক উপায়ে রূপচর্চার জন্য খুবই উপকারী।
গোলাপজলের ব্যবহার ও উপকারিতা:
রূপচর্চা:
টোনার ও মিস্ট: সরাসরি ত্বকে লাগিয়ে টোনার বা ফেসিয়াল মিস্ট হিসেবে ব্যবহার করলে ত্বক সতেজ ও উজ্জ্বল হয়।
আর্দ্রতা রক্ষা: ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং পিএইচ (pH) ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
প্রদাহ হ্রাস: লালচে ভাব ও জ্বালাপোড়া কমাতে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান হিসেবে কাজ করে।
ফেসপ্যাক: অন্যান্য প্রাকৃতিক উপাদানের সঙ্গে মিশিয়ে ফেসপ্যাক তৈরি করা যায়।
চোখের যত্ন: চোখের নিচের ফোলা ভাব ও বলিরেখা কমাতে সাহায্য করে।
রান্নায়: খাবারকে সুগন্ধিযুক্ত করতে এবং হজমশক্তি উন্নত করতে ব্যবহার করা হয়।
মানসিক প্রশান্তি: এর সুবাস মানসিক চাপ কমাতে এবং প্রশান্তি আনতে সাহায্য করে (অ্যারোমাথেরাপি)।
ঘরে গোলাপজল তৈরির পদ্ধতি (সাধারণ):
গোলাপের পাপড়ি সংগ্রহ করে ধুয়ে নিন।
একটি পাত্রে পাপড়িগুলো রেখে, তাতে ফুটন্ত জল ঢেলে দিন।
ঢাকনা দিয়ে ৩০ মিনিটের জন্য ঢেকে রাখুন।
এরপর ছেঁকে জল আলাদা করে নিন।
এটি বাজারের রাসায়নিকযুক্ত গোলাপজলের একটি চমৎকার প্রাকৃতিক বিকল্প,
যা ত্বক ও স্বাস্থ্যের জন্য
সাধারণত, খাঁটি ও সঠিক পরিমাণে ব্যবহার করলে খাবারে গোলাপজল মেশালে তেমন কোনো ক্ষতি হয় না, বরং এটি স্বাদ ও সুগন্ধ বাড়ায় এবং হজমে সাহায্য করতে পারে। তবে, কৃত্রিম, ভেজাল বা অতিরিক্ত পরিমাণে গোলাপজল ব্যবহার করলে তা ক্ষতিকর হতে পারে, যেমন – রাসায়নিকের কারণে পেটের সমস্যা, অ্যাসিডিটি, অথবা অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
গোলাপজল খাবারে মেশানোর কিছু ঝুঁকি:
কৃত্রিম ও ভেজাল: বাজারে অনেক সময় গোলাপজল নামে এমন তরল বিক্রি হয়, যাতে সিন্থেটিক কেমিক্যাল (কৃত্রিম সুগন্ধি) মেশানো থাকে। এগুলো খেলে পেটের সমস্যা, বমি ভাব, বা অন্যান্য স্বাস্থ্য ঝুঁকি হতে পারে।
অতিরিক্ত ব্যবহার: অল্প পরিমাণে গোলাপজল যেমন উপকারী, অতিরিক্ত পরিমাণে ব্যবহার করলে এর সুগন্ধ বা স্বাদ অতিরিক্ত তীব্র হয়ে খাবারের স্বাদ নষ্ট করতে পারে এবং অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।
অ্যালার্জি: কিছু মানুষের গোলাপ বা এর নির্যাসের প্রতি অ্যালার্জি থাকতে পারে, যা তাদের ত্বকে ফুসকুড়ি, চুলকানি বা শ্বাসকষ্টের কারণ হতে পারে।
রাসায়নিক উপাদান: কিছু নিম্নমানের গোলাপজলে ক্ষতিকারক প্রিজারভেটিভ বা অন্যান্য রাসায়নিক থাকতে পারে যা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়।
ক্ষতি এড়ানোর উপায়:
খাঁটি গোলাপজল ব্যবহার: বিশ্বস্ত উৎস থেকে তৈরি, ১০০% প্রাকৃতিক এবং ভেজালমুক্ত গোলাপজল কিনুন।
সামান্য পরিমাণে ব্যবহার: খাবার বা পানীয়তে কয়েক ফোঁটা বা অল্প পরিমাণ ব্যবহার করুন।
নিজেকে পরীক্ষা করুন: প্রথমবার ব্যবহার করলে অল্প পরিমাণে খেয়ে দেখুন কোনো প্রতিক্রিয়া
হয় কিনা।
বাজারে খাদ্যপণ্যে ব্যবহারের উপযোগী দাবি করে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ‘গোলাপজল’ ও ‘কেওড়া জল’ নামক সুগন্ধি বিক্রি বাড়ছে। লেবেলে ‘খাবার উপযোগী’, ‘ফুড গ্রেড’, ‘খাদ্য আইন অনুসরণ করে প্রস্তুত’, এমনকি ভেজিটেরিয়ান খাদ্য নির্দেশক সবুজ চিহ্ন ব্যবহার করে এগুলোকে নিরাপদ বলে প্রচার করা হচ্ছে। কিন্তু এসব দাবির পেছনে রয়েছে বড় ধরনের বিভ্রান্তি ও জনস্বাস্থ্যঝুঁকি—এমনই সতর্কতা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সম্প্রতি বাজারে পাওয়া পণ্যের লেবেল পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বহু গোলাপজল ও কেওড়া জলের বোতলে উপাদান হিসেবে শুধু “বিশুদ্ধ পানি” ও “গোলাপ/কেওড়া ফ্লেভার” বা কেবল “ফ্লেভার (Flavour)” লেখা রয়েছে। এতে বোঝার উপায় নেই সুগন্ধি তৈরিতে ঠিক কী ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে ক্রেতা ও খাদ্য ব্যবসায়ীদের মাঝে তৈরি হচ্ছে বিভ্রান্তি।

খাদ্য নিরাপত্তা আইন, ২০১৩-এর ২৭ ও ৩২ ধারায় বলা আছে—খাদ্যে অননুমোদিত সংযোজন দ্রব্য ব্যবহার কিংবা সঠিক লেবেলিং না করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে গোলাপজল ও কেওড়া জল উৎপাদনকারী কয়েকটি কারখানায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে দেখা গেছে উদ্বেগজনক তথ্য। এসব কারখানায় অনুমোদনহীন রাসায়নিক—এমনকি কিডনি ডায়ালাইসিসে ব্যবহৃত রাসায়নিক পদার্থ পর্যন্ত মিশিয়ে সুগন্ধি প্রস্তুত করা হচ্ছিল।

গোলাপজল তৈরিতে ব্যবহৃত অননুমোদিত কেমিক্যাল এবং কেওড়া জলে মেশানো ডায়ালাইসিস দ্রব্য জনস্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে বলে জানিয়েছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

এমতাবস্থায় ‘মোড়কাবদ্ধ খাদ্য লেবেলিং প্রবিধানমালা, ২০১৭’ অনুযায়ী যেসব সুগন্ধির লেবেলে ‘অনুমোদিত প্রাকৃতিক’, ‘অনুমোদিত কৃত্রিম’ বা ‘অনুমোদিত প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম’ সুগন্ধি—এ ধরনের অভিব্যক্তি স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই এবং কৃত্রিম সুগন্ধিতে ব্যবহৃত দ্রব্যের সাধারণ নাম ও ইনডেক্স (INS) নম্বর দেয়া নেই—এমন পণ্য উৎপাদন, বিপণন ও বাজারজাতকরণ থেকে বিরত থাকার জন্য সকল প্রস্তুতকারককে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া রেস্টুরেন্ট, বেকারি, কমিউনিটি সেন্টার, ক্যাটারিং সার্ভিসসহ সব ধরনের খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে—অপ্রমাণিত ও ভুল লেবেলযুক্ত সুগন্ধি কোনোভাবেই খাবারে ব্যবহার করা যাবে না।

সাধারণ ভোক্তাদের উদ্দেশে বলা হয়েছে, যথাযথ লেবেলিং ছাড়া কোনো ধরনের গোলাপজল বা কেওড়া জল খাদ্যে ব্যবহার বা ক্রয় থেকে বিরত থাকতে হবে। সুগন্ধির নামে ভেজাল রাসায়নিক যেন আপনার খাবারে না পৌঁছায়—তা নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি।

Facebook Comments Box


এ জাতীয় আরো সংবাদ