নদীর বুকে, বন্ধুদের সাথে—গাজীপুর এক্সপ্রেসের নৌকা ভ্রমণে ০৫০৭ ব্যাচের মিলনমেলা♦
নৌকায় আড্ডা, গান-নাচ, বৃষ্টিতে ভেজা ও গ্রামবাংলার সৌন্দর্য—দিনভর আনন্দে মেতে উঠলেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বন্ধুরা
মোঃ বিল্লাল হোসাইন (গাজীপুর)
বন্ধুত্বের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করা, পুরোনো স্মৃতিকে নতুন করে জাগিয়ে তোলা এবং কর্মব্যস্ত জীবনের একঘেয়েমি থেকে বেরিয়ে আনন্দঘন একটি দিন কাটানোর প্রত্যয়ে অনুষ্ঠিত হলো গাজীপুর এক্সপ্রেস ০৫০৭ ব্যাচের বহুল প্রতীক্ষিত নৌকা ভ্রমণ—“নদীর বুকে, বন্ধুদের সাথে”।
গত শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে গাজীপুর এক্সপ্রেসের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ নৌকা ভ্রমণে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ০৫০৭ ব্যাচের বন্ধুরা অংশগ্রহণ করেন। দূর-দূরান্তের অনেক বন্ধু ভ্রমণের একদিন আগেই গাজীপুরে এসে পৌঁছান। ফলে ভ্রমণের আগের রাত থেকেই বন্ধুদের মধ্যে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
সকালের নাস্তায় শুরু দিনের আনন্দঃ নির্ধারিত সময়ে একে একে সব বন্ধুরা নৌকায় উপস্থিত হওয়ার পর শুরু হয় একসঙ্গে সকালের নাস্তা। দীর্ঘদিন পর বন্ধুদের একত্রিত হওয়ার আনন্দে সকালের নাস্তাও পরিণত হয় আন্তরিক আড্ডা ও হাসি-আনন্দের মিলনমেলায়।
অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান, রাজু ও সার্জেন্ট নাজমুল। তাদের সাবলীল উপস্থাপনা, রসিকতা ও প্রাণবন্ত কথোপকথনে শুরু থেকেই পুরো আয়োজন হয়ে ওঠে আরও উপভোগ্য।
নৌকায় আড্ডা, গান আর নাচে মুখর পরিবেশঃ নাস্তা শেষে শুরু হয় মূল নৌযাত্রা। নৌকা চলতে শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে জমে ওঠে বন্ধুদের পরিচিতি পর্ব, আড্ডা, গল্প ও স্মৃতিচারণ। কেউ পুরোনো দিনের গল্পে ফিরে যান, কেউ আবার বন্ধুদের সঙ্গে ছবি ও ভিডিও ধারণে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।
এরপর গানের তালে তালে শুরু হয় নাচ-গান। আনন্দের এই আয়োজনে দীন মোহাম্মদ, ফয়সাল, শিশির ও বিল্লাল বেপারী নিজেদের প্রাণবন্ত নাচ-গানের মাধ্যমে পুরো নৌকাকে মাতিয়ে রাখেন।
একপর্যায়ে বৃষ্টি নামলে আনন্দ যেন আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বৃষ্টিতে ভেজার আনন্দ আর নদীর ঢেউ—দুটির মেলবন্ধনে তৈরি হয় ভ্রমণের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত।
চোখে পড়ে গ্রামবাংলার অপরূপ সৌন্দর্যঃ নৌযাত্রার পুরো পথজুড়ে বন্ধুরা উপভোগ করেন গ্রামবাংলার চিরচেনা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। নদীতে শিশুদের গোসল, কৃষকের জমি চাষ, জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্যসহ নদীকেন্দ্রিক গ্রামীণ জীবনের নানা চিত্র তাদের মুগ্ধ করে।
শহরের ব্যস্ততা থেকে দূরে নদীর বুক দিয়ে এগিয়ে চলা নৌকায় বসে প্রকৃতির এমন নির্মল সৌন্দর্য উপভোগ করতে পেরে অনেকেই এটিকে ভ্রমণের অন্যতম সেরা অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করেন।
ঐতিহাসিক মহেরা জমিদার বাড়িতে ফটোসেশনঃ নদীপথের সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে বন্ধুরা পৌঁছে যান ঐতিহাসিক মহেরা জমিদার বাড়িতে। সেখানে জমিদার বাড়ির বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনা ও দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখেন তারা।
বন্ধুদের মধ্যে চলে ব্যাপক ফটোসেশন। জমিদার বাড়ির গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি স্থানে ছবি তুলে সবাই দিনটির স্মৃতি ক্যামেরাবন্দি করে রাখেন। বন্ধুদের হাসি-আনন্দ, ছবি তোলা ও ঘোরাঘুলিতে পুরো এলাকা হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত।
ফেরার পথেও র্যাফেল ড্র ও আনন্দঃ মহেরা জমিদার বাড়ি পরিদর্শন শেষে সন্ধ্যা ৭টার দিকে বন্ধুরা আবার গাজীপুরের উদ্দেশ্যে নৌকায় যাত্রা শুরু করেন। ফেরার পথেও থেমে থাকেনি আড্ডা ও আনন্দ।
রাতের নদীর সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি আয়োজন করা হয় র্যাফেল ড্র। র্যাফেল ড্রকে ঘিরে বন্ধুদের মধ্যে তৈরি হয় বাড়তি উত্তেজনা ও উচ্ছ্বাস। সারাদিনের ক্লান্তির মধ্যেও হাসি-আনন্দে মুখর ছিল পুরো নৌকা।
আনন্দঘন বিদায়ঃ রাতের নদীর মনোরম দৃশ্য উপভোগ করতে করতে অবশেষে নৌকা এসে পৌঁছে গাজীপুরের কারখানা বাজার ও কড্ডা এলাকায়। এরপর বন্ধুরা নিজেদের গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
বিদায়ের মুহূর্তে অনেকের কণ্ঠে ছিল আবারও এমন একটি আয়োজনের প্রত্যাশা। কারণ একদিনের এই ভ্রমণ শুধু নৌকায় ঘোরাঘুরি কিংবা বিনোদনের আয়োজন ছিল না; বরং দীর্ঘদিন পর একসঙ্গে হওয়া বন্ধুদের সম্পর্ককে আরও গভীর করার একটি সুন্দর উপলক্ষ।
স্মৃতির পাতায় থাকবে “নদীর বুকে, বন্ধুদের সাথে”
গাজীপুর এক্সপ্রেস ম্যানেজমেন্ট টিমের মতে, এবারের নৌকা ভ্রমণ ০৫০৭ ব্যাচের বন্ধুদের জীবনে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বন্ধুত্ব, ভালোবাসা, আনন্দ ও সৌহার্দ্যের এমন আয়োজন আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে—এমন প্রত্যাশা আয়োজকদের।
“নদীর বুকে, বন্ধুদের সাথে”—শুধু একটি নৌকা ভ্রমণের নাম নয়; এটি ছিল পুরোনো বন্ধুত্বকে নতুন করে উদযাপন, স্মৃতির পাতায় নতুন অধ্যায় যোগ করা এবং একদিনের জন্য সবাইকে আবার সেই চেনা বন্ধুত্বের আড্ডায় ফিরিয়ে নেওয়ার এক অনন্য আয়োজন।