ব্রাহ্মণবাড়িয়া | ৩ জানুয়ারি, ২০২৬
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছয়টি সংসদীয় আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। দুই দিনব্যাপী এ যাচাই-বাছাই শেষে জেলার বিভিন্ন আসনে মোট ১৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়। বাতিলের প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ভোটারদের স্বাক্ষর ও তথ্যগত জটিলতা।
জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে শনিবার (৩ জানুয়ারি) বিকেলে দ্বিতীয় দিনের যাচাই-বাছাই শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য জানানো হয়। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের দাখিলকৃত নথিপত্র যাচাই করা হয়।
দ্বিতীয় দিনে মূলত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া), ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনের মোট ৩৬ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র পরীক্ষা করা হয়। যাচাই শেষে এসব আসনে ৭ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বাতিল হওয়া প্রার্থীদের ক্ষেত্রে নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরের তালিকায় অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। অনেক ক্ষেত্রে ভোটারদের নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও ঠিকানার সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের ডাটাবেজের মিল পাওয়া যায়নি। এছাড়া কয়েকজন প্রার্থীর বিরুদ্ধে ঋণখেলাপি সংক্রান্ত জটিলতাও ধরা পড়ে।
এর আগে শুক্রবার (২ জানুয়ারি) প্রথম দিনের যাচাই-বাছাইয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১, ২ ও ৩ আসনে ৬ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছিল। সব মিলিয়ে দুই দিনে জেলায় মোট ১৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন অবৈধ ঘোষিত হলো।
তবে স্বস্তির খবর হলো—আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টিসহ প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনীত প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র প্রায় সবাই বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল–আশুগঞ্জ) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়।
এ বিষয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জাহান সাংবাদিকদের জানান,
“যাদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে বাতিল হয়েছে, তারা চাইলে আগামী ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন। আপিল শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে।”
মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার খবরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও আশপাশের এলাকায় প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যায়। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।