খাবার নয়, যেন বিষ!
সানজিদা জাহান এ্যানিঃ প্রতিদিন কর্মব্যস্ততা শেষে বাড়ি ফেরার পথে আমরা অজান্তেই বাজার থেকে বিষ কিনে নিয়ে যাচ্ছি—এ কথা শুনে হয়তো অবাক হবেন, কিন্তু এটাই আজকের নির্মম বাস্তবতা। শাক-সবজি, ফলমূল, মাছ-মাংস থেকে শুরু করে দুধ, মসলা এমনকি শিশুখাদ্য পর্যন্ত—প্রায় সবকিছুতেই মিশ্রিত হচ্ছে হেভি মেটাল, ক্ষতিকর কীটনাশক এবং বিষাক্ত রাসায়নিক। ফরমালিন, ক্যালসিয়াম কার্বাইড, ইথোফেন, ইউরিয়া—এসবের ছোঁয়ায় আমাদের প্রতিদিনের খাবার হয়ে উঠছে নীরব ঘাতক।
বাজারে তাজা দেখাতে মাছে ফরমালিন স্প্রে করা হয়, ফল পাকাতে ব্যবহৃত হয় কার্বাইড—যা ক্যান্সার সৃষ্টিকারী। সবজিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ও হেভি মেটালের উপস্থিতি এখন নিত্যনৈমিত্তিক। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, বাজারের প্রায় ৮৫ শতাংশ মাছেই ফরমালিন মেশানো হয় এবং অনেক ফল-সবজিতে ক্ষতিকর ধাতুর মাত্রা অনুমোদিত সীমার কয়েকগুণ বেশি। এসব বিষাক্ত পদার্থের সংস্পর্শে দীর্ঘদিন থাকলে কিডনি বিকল, লিভারের ক্ষতি, ক্যান্সার ও ডায়াবেটিসের মতো মারাত্মক রোগ বাড়ছে দ্রুতগতিতে।
সুস্থ জাতি গঠনের মূল ভিত্তি সুস্থ সন্তান ও সুস্থ পরিবার। কিন্তু যখন প্রতিদিনের খাবারই বিপন্ন করে তুলছে আমাদের জীবন, তখন স্বাস্থ্যের মূল্য কোথায়? আমাদের সংবিধানের ১৮ অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে: জনগণের পুষ্টির স্তর উন্নয়ন ও জনস্বাস্থ্যের অগ্রগতি রাষ্ট্রের প্রধান কর্তব্য। অথচ বাস্তবে এই দায়িত্ব পালনে চোখে পড়ার মতো কোনো উদ্যোগ নেই। নির্বাচনী ইশতেহারে খাদ্যে ভেজাল রোধের প্রতিশ্রুতি আজও অধরা।
এই মহামারীর মতো সমস্যা রোধে দরকার কঠোর আইন প্রয়োগ, নিয়মিত বাজার মনিটরিং এবং সামাজিক সচেতনতা। অসাধু ব্যবসায়ীদের লোভের কাছে আমরা আর কতদিন জিম্মি থাকব? নীতিনির্ধারকদের প্রতি আকুল আহ্বান—খাদ্যে ভেজাল রোধে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিন। বিষ মিশ্রিত খাবার খেয়েও যে আমরা এখনও বেঁচে আছি, সেজন্য আল্লাহর কাছে লাখো শুকরিয়া। কিন্তু এই অবস্থা আর কতদিন? সময় এসেছে পরিবর্তনের—সুস্থ, নিরাপদ খাবারের অধিকার ফিরিয়ে আনার।