ভূমিকম্পের ফোরশক…
….. উল্লেখ্য প্রায় একশ বছরের মধ্যে দেশে বড় ভূমিকম্প হয়নি। কিন্তু এই দেশে বড় ভূমিকম্প হওয়ার ইতিহাস রয়েছে। সেদিক থেকে এই ভূমিকম্পটিকে ‘ফোরশক’ বলা যায়। অর্থাৎ, একটি বড় ভূমিকম্প আসার আগে যে ছোট ছোট ভূমিকম্পগুলো হয়, এটি তার মধ্যে একটি। ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ৭ মাত্রার ভূমিকম্প ১০০ থেকে ১২৫ বছর পরপর এবং ৮ মাত্রার ভূমিকম্প ২৫০ থেকে ৩০০ বছর পরপর আসার সম্ভাবনা রয়েছে। ১৯৩০ সালের পর এই ভূখণ্ডে বড় ভূমিকম্প না হওয়ায় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকা শহরে ৭ মাত্রার কোনো ভূমিকম্প হলে, প্রায় ২ লক্ষের মতো মানুষ হতাহত হতে পারে এবং শহরের প্রায় ৩৫ ভাগ দালান কোঠা ভেঙে পরতে পারে।
বাংলাদেশকে ভূমিকম্পের ঝুঁকি বিবেচনায় তিনটি জোনে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে উচ্চঝুঁকির আওতাভুক্ত অঞ্চলকে জোন-১, মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা জোন-২ এবং জোন-৩-এর এলাকাকে নিম্ন ঝুঁকিপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের এক মানচিত্রে দেশের ভূমিকম্প ঝুঁকিপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করা হয়। প্রকাশিত মানচিত্র অনুযায়ী, দেশের উত্তর ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি এলাকা জোন-১-এর আওতায় সর্বোচ্চ ঝুঁকিপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত। সাধারণত ফল্ট লাইন বা প্লেট বাউন্ডারির আশপাশের এলাকা ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের ৯টি জেলা, ঢাকা বিভাগের টাঙ্গাইল, গাজীপুর, নরসিংদীর কিছু অংশ, পুরো কিশোরগঞ্জ জেলা, কুমিল্লা বিভাগের ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির বেশ কিছু এলাকা উচ্চঝুঁকিপ্রবণ। তবে জোন-৩-এর এলাকা হিসাবে খুলনা, যশোর, বরিশাল এবং পটুয়াখালী এলাকায় ভূমিকম্পের ঝুঁকি সর্বনিম্ন।
লেখকঃ মোঃ মোশাররফ হোসাইন
উপজেলা নির্বাহী অফিসার পরশুরাম, ফেনি।