নবীনগরে বিএনপি তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপি ঘোষিত কর্মসূচি পালিত, ছিলোনা অন্য রাজনৈতিক দলের কর্মসূচী
মোঃখলিলুর রহমান খলিলঃজুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পতন ও ছাত্র-জনতার বিজয়ের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে দুই দিনের কর্মসূচি দিয়েছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
গত সোমবার বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই কর্মসূচির কথা জানানো হয়।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আজ মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) দেশব্যাপী সব থানা-উপজেলায় বিজয় র্যালি অনুষ্ঠিত হয় তার ধারাবাহিকতায় নবীনগরেও কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
নবীনগর উপজেলা বিএনপি ও পৌর বিএনপির ব্যানারে আলাদা ভাবে তিনটি মিছিল হয় নবীনগর উপজেলা সদরে।
মূলত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়ে আসছে দীর্ঘদিন যাবৎ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক কাজী নাজমুল হোসেন তাপসের নেতৃত্বে নবীনগর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি উপজেলা চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার শফিকুর রহমান,সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ, নবী নগর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান মঞ্জু, সাবেক পৌর মেয়র মাইনু উদ্দিন মাইনু, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আবু সায়েদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাজী শাহাবুদ্দিন, জেলা বিএনপির সদস্য হযরত আলী, উপজেলা যুবদল আহবায়ক এমদাদুল বারী, পৌর যুবদলের আহবায়ক আলী আজ্জম,পৌর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আশরাফুল আলম রুবেলকে নিয়ে বিশাল কর্মী বাহিনী নিয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন। আজও তার অনুসারীদের নিয়ে সকালবেলা সমবায় মার্কেটে বিএনপির কার্যালয়ে জুলাই শহীদ ও আহতদের সম্মানে সম্মাননা স্মারক ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেন। উক্ত অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পাঠানো উপহার তুলে দেন।বিকালবেলা বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে হাজার নেতাকর্মীদের নিয়ে বিশাল আনন্দ মিছিল করে তাক লাগিয়ে দেন।
অন্য একটি গ্রুপের নেতৃত্ব দেন নবীনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট এম এ মান্নান। তাঁর নেতৃত্বে রয়েছেন জেলা বিএনপির সদস্য মাসুদুল ইসলাম মাসুদ,আশরাফুল ইসলাম, দেলোয়ার হোসেন সোহেল, দুলাল, শুক্কুরখান সহ অনেকেই।
তবে জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিম নিজে আলাদা একটি বলয়ে রাজনীতি করছেন।
এই রাজনীতির প্রতিফলন আজ স্পষ্ট ভাবে পরিলক্ষিত হয়।
নাজমুল করিমের নেতৃত্বে উপজেলা বিএনপির ব্যানারে আনন্দ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য তকদির হোসেন জসীম, নবীনগর মহিলা দলের আহবায়ক অধ্যাপক নায়লা ইসলাম ।
আজ ৫ আগস্ট ২০২৪-এ বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শহীদদের আত্মত্যাগে আওয়ামী সরকারের পতনের বর্ষপূর্তিতে ৫ আগস্ট ২০২৫, নবীনগরের আলিয়াবাদ বাসস্টেশন থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক, নবীনগর আসনের ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশী কাজী নাজমুল হোসেন তাপস এর নেতৃত্বে এক বিশাল আনন্দ মিছিল বের করা হয়। বিকাল সাড়ে ৫টায় শুরু হওয়া এই মিছিলটি নবীনগর শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে সমবায় মার্কেটে এসে শেষ হয়।মিছিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর)সংসদীয় আসনের জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশী কাজী নাজমুল হোসেন তাপস। তিনি শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, “গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য এই আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন স্মরণ করবে,আমাদেরকে সহনশীলতা বজায় রাখতে হবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সদস্য,উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান মঞ্জু মিছিলে সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন নবীনগর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ,নবীনগর পৌরসভার সাবেক মেয়র মাইন উদ্দিন মাইনু এবং নবীনগর ৪ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আবু সায়েদ। জেলা বিএনপির সদস্য হযরত আলী, এমদাদুল বারী,আলী আজ্জম, আশরাফুল আলম রুবেল।বক্তারা স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন এবং তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে দূপুরের পর থেকেই নবীনগরের ২১ টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে মিছিলে অংশগ্রহণ করার জন্য নবীনগর আলিয়াবাদ বাসস্ট্যান্ডে জমায়েত হতে থাকে বৃষ্টির মধ্যেও বিশাল মিছিল প্রমাণ করে কাজী নাজমুল হোসেন তাপস জনগণের নিকট তুমুল জনপ্রিয়।
৫ আগস্ট জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা বিএনপি ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে এডভোকেট এম এ মান্নানের নেতৃত্বে বিশাল বিজয় মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) দুপুরে নবীনগর বাস স্ট্যান্ড থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে নবীনগর প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আহ্বানে সারাদেশের মতো নবীনগরেও এই কর্মসূচি পালিত হয়।মিছিলে নেতৃত্ব দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী অ্যাডভোকেট এম. এ. মান্নান।এম এ মান্নান বলেন, “৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে নবীনগরের ৩ জন নিহত হয়েছে। নবীনগরের ৩ জন শহিদসহ গণঅভ্যুত্থানে সকল শহিদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।”মিছিলে আরো উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সদস্য মাসুদুল ইসলাম মাসুদ, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এস.কে হেলাল, সহ-সভাপতি গোলাম হোসেন টিটু, সহ-সভাপতি আ. রহিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ হোসেন রাজু, সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন সোহেল, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. মহিউদ্দিন আহমেদ মহিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার, জিয়াউর রহমান, পৌর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি হাসিবুল হাদিস শাহীন, উপজেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. ইদ্রিস, যুব বিষয়ক সম্পাদক জাবেদুল ইসলাম জাবেদ, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন তন্ময়, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান দুলাল, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব তুজাম্মেল হক বকুল, জেলা যুব দলের সদস্য মাহবুবুর রহমান, যুবদল নেতা মনজুরুল আলম মজনু, সাবেক ছাত্রদলের সভাপতি রাশেদুল হক কাজী সুমন, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অনন্ত হিরা, সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল উদয় প্রমুখ।
অন্যদিকে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপি’র নির্দেশনা মেনে বিজয় র্যালী করলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য তকদির হোসেন মোঃ জসিম, ও নবীনগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিম, অধ্যাপক নায়লা ইসলাম।
নবীনগর উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক জনাব নাজমুল করিম বলেন সারা বাংলাদেশে উপজেলা থানা ইউনিট সমূহ এক যুগে জুলাই আগস্ট বিপ্লবের বিজয় র্যালী উদযাপন হয়েছে।
উক্ত বিজয় র্যালিতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া, জনাব তারেক রহমানএর ছবি ছাড়া কোন ব্যক্তির পোস্টার ব্যানার ফেস্টুন না থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন জেলা বিএনপি।
নাজমুল করিম আরও বলেন কিন্তু দুঃখের বিষয় উপজেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট মান্নান উনার নিজের ফেস্টুন ব্যানার এবং ক্যাপ ব্যবহার করেন।
উনি সাংগঠনিক নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে নবীনগরে সাংগঠনিক বিভাজন সৃষ্টি করেছেন। তাই আমরা সম্পূর্ণ সাংগঠনিক নিয়ম মেনে নবীনগরে বিজয় র্যালী করেছি।
আজ ৫ আগস্ট নবীনগর উপজেলা সদর ছিলো বিএনপির নেতা কর্মীদের পদচারণায় মুখরিত। অন্য কোন দলের কোন কর্মসূচি চোখে পড়েনি।উপজেলা জামাতে ইসলাম,এনসিপি,গণ অধিকার এর কোন কর্মসূচি ছিলোনা।