ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সীমান্তপথে দেদারসে চলছে মাদক চোরাচালান
মোঃখলিলুর রহমান পরদেশী ঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ভয়ানক অভিশাপের নাম মাদক। এই মাদক ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মেধাবীদের যেমন গ্রাস করে ফেলছে ঠিক তেমনি বসবাসের পরিবেশকে নষ্ট করে ফেলছে। এই মাদকের ভয়ানক ছুবল শুধু তরুণদেরকেই শেষ করে নাই মাদকের ভয়াবহ কালো থাপা পড়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাংবাদিক ও পুলিশের উপর। গত দুই বছর আগে আশুগঞ্জ উপজেলার এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মাদকের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছিল। সাম্প্রতিক সময়ে আশুগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। এভাবে চলতে থাকলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এই নিরব ঘাতক মাদক আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি ঘটাবে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ভারতীয় সীমান্তপথের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে দেশে ঢুকছে মাদক, যে মাদক ছড়িয়ে পড়ছে জেলার নয়টি উপজেলা সহ রাজধানীতে। এই মাদক প্রবেশের কার্যক্রম ঠেকাতে যথাসাধ্য চেষ্টার দাবী
স্হানীয় প্রশাসনের।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সীমান্তবর্তী এলাকা ঘুরে দেখা যায় অতি স্বাভাবিক ভাবে মাদক ক্রয় বিক্রয় চলছে মাদক সহজ লভ্য হওয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মাদকাসক্ত ও মাদক ব্যাবসায়ীরা ছুটে আসে ব্রাণবাড়ীয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায়।বিজয়নগর, কসবা ও আখাউড়ায় ভারতের সীমান্তবর্তী সীমানা রয়েছে।
কাঁটাতারের বেড়া থাকলেও বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে ভারত থেকে দেদারসে ঢুকছে মাদক।
মাদক দ্রব্য অধিদপ্তরের তথ্য রয়েছে সিংগারবিল,ইগুরতুলি,মিরাসানি, হরশপুর, বিষ্ণুপুর, মুকিতপুর, কালাউড়া, আখাউড়ার কর্নেল বাজার শিরের বাজার, আনোয়ার পুর গঙ্গাসাগর, তাজপুর, কসবার মাদলা, মঈনপুর, আকবপুর, কৈয়া পানিষর ও লক্ষীগঞ্জ মাদক চোরাচালানের হট স্পট। মাদক সড়ক ও নৌপথে ছড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন জেলায়।
তিন ভাগে মাদক হাত বদল হয়। প্রথম ভাগে সীমান্ত থেকে যায় বিজয় নগর তারপর যায় ঢাকা ও চট্রগ্রাম পার্টির নিকটে।
সীমান্ত থেকে ১ম পার্টির নিকট ২৫ কেজি মাদক পৌছে দিতে পারলে একলক্ষ টাকা পাওয়া যায়।
২৫ কেজি মাদক পাচার করতে শ্রমিক খরচ হয় ২০ হাজার টাকা। স্হানীয় বাসিন্দারাও এই মাদক ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়ছে।
প্রশাসন মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতারও করে।মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন আমরা মাদক নিয়ন্ত্রণের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপার এহতেশামুল হক বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে মাঝেমাঝে চেকপোস্ট বসানো হয় তারপরেও মাদক নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।
জেলা প্রশাসক দিদারুল আলম বলেন মাদক চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হচ্ছে, সীমান্ত এলাকা দীর্ঘ হওয়ায় মাদক প্রবেশ ঠেকানো কষ্ট হচ্ছে,সীমান্তবর্তী জনগণকে সচেতন করার চেষ্টা চলছে।