মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলার হোসেন্দী ইউনিয়নে খাল পাড়ি দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ৩৬টি গরু মারা গেছে। শুক্রবার বিকালে ভাটিবলাকী এলাকায় মাঠে চড়তে দেওয়া গরুর পাল খাল পাড়ি দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে পানির তোড়ে ও কচুরী পানার প্রতিবন্ধকতায় পড়ে পানিতে ডুবে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হোসেন্দী ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের ভাটি বলাকী গ্রামের দক্ষিণ পাশে একটি সরু খাল পাড়ি দিয়ে ওই গ্রামের শতাধিক গৃহস্থ পরিবারের কয়েকশ গরু প্রতিদিন খাল সাঁতরে চরে যায়। প্রতিদিন সকাল ৮ টা থেকে বিকাল তিনটা পর্যন্ত মাঠে থেকে ঘাষ খায়। বিকালে পুনরায় খাল সাঁতরে নিজেদের মতো করে গোয়ালে ফিরে আসে।
২ গরু হারানো তরিকুল মিয়া বলেন, 'গ্রামের শতাধিক পরিবারের জীবিকার প্রধান অবলম্বন গরু পালন করা। প্রতিদিনের মতো আজ বিকালে গরু বাড়ি ফেরার পথে খালের পানিতে প্রচন্ড জোয়ারের চাপ ও অতিরিক্ত কচুরীপানা থাকার কারণে ডুবে মারা যায়। গরু হারিয়ে দিশেহারা পরিবারগুলোর শোকে পুরো গ্রাম জুড়েই শোকের ছায়া নেমে এসেছে।'
ভাটিবলাকী গ্রামের দক্ষিণ মহল্লার বাসিন্দা শরীফ মিয়া,আবুল হোসেন, কবীর খান প্রতি জনের ৩ টি করে গরু মারা গেছে। তারা জানান, আমাদের গাভীর দুধ বিক্রী করে সংসার চলে। এখন কী করমু।
একই গ্রামের রণি মিয়া, এমার হোসেন বলেন, আমাদের গরুগুলো প্রতিদিন গোয়াল থেকে নিজেরা বের হয়ে খাল সাঁতরে ওই পাড়ের চকে গিয়ে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ঘাস খেয়ে আবার বিকালে খাল পাড়ি দিয়ে যে যার বাড়ি চলে আসে। নাহিদ, হেলানী, হানিফা ও মনার মিয়ার মতো ১৭টি পরিবারের ৩৬টি গরু মারা যাওয়ায় তাদের পরিবারে চলছে হাহাকার।
গরু মারা যাওয়ায় পরিবারগুলো কিভাবে তাদের এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠবেন এমন পথ তাদের অজানা।