মোঃখলিলুর রহমান খলিলঃ
ইউক্যালিপটাস ও আকাশমনি পরিবেশের খুব ক্ষতিকর করছেন বলে বলছেন উদ্ভিদবিদ ও গাছ গবেষকরা। সম্প্রতি পরিবেশ বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয় এই গাছ রোপন বিক্রয়ের উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছেন। উত্তর অঞ্চলে এই গাছ প্রচুর রোপন করা হয়। মূলত আশির দশকে বাংলাদেশ সরকার এই গাছ বিদেশ থেকে আমদানি করে বাংলাদেশের নিয়ে আসেন। দ্রুত বৃদ্ধি পায় বলে, ভালো কাঠ পাওয়া যায় বলে এই গাছ রোপন করা হয়। ব্যক্তি উদ্যোগেও প্রচুর পরিমাণে রোপন করা হয় এই গাছ।এই গাছ প্রচুর পরিমাণে পানি শোষণ করে মাটি কে রুক্ষ করে তুলে এতে করে আগুন লাগা বা ধাবানল সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পৃথিবীকে পরিবেশবান্ধব এবং প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় গাছের কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু তাই বলে সব রকমের গাছই যে মানুষের জন্য উপকারী কিংবা পরিবেশবান্ধব হবে তা কিন্তু নয়, বরং হতে পারে।
সারা বিশ্বে প্রায় ৭০০ প্রজাতির ইউক্যালিপটাস আছে। বৈজ্ঞানিক ভাষায় একে ডাকা হয় ইউক্যালিপটাস ওবলিকোয়া। এই গাছের কিছু গুণাগুণ থাকলেও সাথে আছে মারাত্মক বিরূপ প্রভাব।
অস্ট্রেলিয়া থেকে ৪৫ লাখ টন ইউক্যালিপটাস কাঠের ফালি আসবাবপত্রের কাজে রফতানি করা হয় যা থেকে বছরে প্রায় ২৫ কোটি মার্কিন ডলার আয় হয়। এই গাছটি থেকে কিনো, তেল ও ট্যানিন পাওয়া যায়। এই গাছের তেল অ্যান্টিসেপটিক ও পরিষ্কারক এমনকি মশা নিধনেও ভূমিকা রাখে। এই গাছের ফুল সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি মধু প্রস্তুতেও কাজে লাগে।
ইউক্যালিপটাস হলো এমন একটি গাছ যা মাটি থেকে অতিমাত্রায় পানি শোষণ করে পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় ঘটায়। মাটির গুণাগুণের কারণে এটি বর্তমানে আমাদের দেশের উত্তর পশ্চিমাঞ্চল এবং দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে বেশি রোপণ করতে দেখা যাচ্ছে। কিন্তু একটি ইউক্যালিপটাস গাছ তার আশপাশের প্রায় ১০ ফুট এলাকার ও ভূগর্ভের প্রায় ৫০ ফুট নিচের পানি শোষণ করে প্রস্বেদন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃতিতে ছেড়ে দেয়। এই প্রক্রিয়াটি ২৪ ঘণ্টাই চলতে থাকে। ফলে দ্রুত মাটিতে পানিশূন্যতা দেখা দেয়। এতে আশপাশের অন্য প্রজাতির গাছও জন্মাতে পারে না। গাছটি মাটিকে শুষ্কও করে ফেলে। ফলে মাটির উর্বরতা কমে যায়।
অবাক করা বিষয় হচ্ছে- গাছটি কেটে ফেললেও মাটির উর্বরতা ফিরে আসতে দীর্ঘ সময় লাগে। এমনকি এ গাছের ফুল ও ফল ঝরে পড়লে সেখানে পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দেয়। এই গাছের ফুল এবং পাপড়িগুলো বাতাসে ছড়িয়ে পড়লে মানুষের শ্বাসনালীতে ঢুকে শ্বাসকষ্ট এবং হার্টের অসুখ সৃষ্টি করে। পরিবেশ বিজ্ঞানীদের মতে, বাংলাদেশের জলবায়ুর জন্য অত্যন্ত বিপদজ্জনক গাছ হলো ইউক্যালিপটাস।
ইউক্যালিপটাসের পাতায় এক ধরনের অ্যান্টিসেপটিক থাকায় এর নিচে ছোট গাছ বাড়তে পারে না। মারা যায় পোকা মাকড়ও। যেখানে একসঙ্গে সব ধরনের ছোট বড় গাছ ফসল এবং জলাশয় আছে সেই পরিবেশে এই গাছটি ব্যাপক ক্ষতিকারক। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রোপণকৃত ইউক্যালিপটাস গাছের কারণে সেসব এলাকার ফসল ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে।
তবে এই সব গবেষণা হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশের জলবায়ুকে কেন্দ্র করে। যেহেতু সেইসব দেশে বৃষ্টিপাত কম হয় তবে আমাদের দেশে বৃষ্টি পাতের পরিমান বেশি বলে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনাও কম রয়েছে।