আর্থিক কেলেঙ্কারির বিষয়ে বিসিবির মন্তব্য কি গ্রহযোগ্য
মোঃখলিলুর রহমান খলিলঃ বিগত কয়েদিন ধরে বিসিবির আর্থিক লেনদেন নিয়ে সারা দেশে আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠেছে।এই পরিপ্রেক্ষিতে গণমাধ্যমে বিসিবির আর্থিক লেনদেনের ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। কিছুদিন আগেই গণমাধ্যমে বিসিবির আর্থিক কিছু ব্যাপারে অনিয়মের খবর এসেছিল। যা নিয়ে এবার মুখ খুলেছে বিসিবি।
বিসিবির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ব্যাংকে টাকা স্থানান্তরের ক্ষেত্রে কম ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংক বেছে নেওয়ার পাশাপাশি উচ্চ সুদের হারের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া বিসিবি প্রধান ফারুক আহমেদ এসব ব্যাপারে স্বাক্ষরকারী নন বরং বিসিবির দুই পরিচালক ফাহিম সিনহা এবং মাহবুবুল আনাম এসব ব্যাপারে স্বাক্ষর দিয়েছেন বলেও জানানো হয়েছে বোর্ডের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে।
বিসিবির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে বোর্ডের আর্থিক লেনদেন নিয়ে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিসিবি মনে করে যে এই প্রতিবেদনে ভুল তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, তা অসত্য এবং উদ্দেশ্যমূলকভাবে বোর্ড ও এর সভাপতি জনাব ফারুক আহমেদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে।’
বিসিবি তার সকল আর্থিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছে। সাম্প্রতিক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে, বোর্ড সাধারণ জনগণ এবং বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় নিয়োজিত গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য নিচের বিষয়গুলো স্পষ্ট করতে চায় –
২০২৪ সালের আগস্টে বিসিবি সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করার পর জনাব ফারুক আহমেদ বোর্ডের আর্থিক স্বার্থ রক্ষা করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেন। বিশেষ করে, পূর্ববর্তী বছরগুলোতে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসের গণআন্দোলনের পর দেশের কঠিন অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটের প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
‘এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে, বিসিবি তার ব্যাংকিং সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়ন করে এবং কৌশলগতভাবে শুধুমাত্র বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ‘গ্রিন’ ও ‘ইয়েলো’ জোন হিসেবে শ্রেণিবদ্ধকৃত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেয়। আর্থিক নিরাপত্তার গুরুত্ব বিবেচনায় রেখে, বোর্ড ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংক থেকে ২৫০ কোটি টাকা উত্তোলন করে এবং এর মধ্যে ২৩৮ কোটি টাকা গ্রিন ও ইয়েলো জোনে থাকা ব্যাংকগুলোতে পুনঃবিনিয়োগ করে। অবশিষ্ট ১২ কোটি টাকা বোর্ডের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নির্ধারিত একটি হিসাবে স্থানান্তর করা হয়।’
উল্লেখযোগ্য, ব্যাংকিং অংশীদার পরিবর্তন কিংবা ব্যাংকের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে বিসিবি সভাপতি এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন না। এসব বিষয়ে বোর্ডের জ্ঞাতসারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় এবং ব্যাংকিং লেনদেনে স্বাক্ষর প্রদানকারী দুইজন হলেন বিসিবির অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান জনাব ফাহিম সিনহা এবং টেন্ডার ও ক্রয় কমিটির চেয়ারম্যান জনাব মাহবুবুল আনাম। বিসিবি সভাপতি এসব বিষয়ে স্বাক্ষরকারী নন।’
বিসিবি আরও জানে যে, একটি অপতৎপর গোষ্ঠী – যারা ক্রিকেট প্রশাসনের ভিতর এবং বাইরে সক্রিয় – বোর্ডকে কলুষিত করতে এবং এর প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করতে কাজ করে যাচ্ছে। এই কারণেও বিসিবি তার তহবিল ও কার্যক্রমের নিরাপত্তা জোরদার করেছে।’
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে বিসিবি ১৩টি ব্যাংকের সঙ্গে তহবিল ও স্থায়ী আমানতের দায়িত্ব অর্পণ করেছে। এই পদক্ষেপ শুধুমাত্র আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেনি, বরং প্রতিযোগিতামূলক সুদহারের সুবিধা গ্রহণের সুযোগও দিয়েছে। ফলে, বিসিবি পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় স্থায়ী আমানত থেকে ২–৫ শতাংশ বেশি সুদ আয় করেছে।’
এছাড়া, শুধুমাত্র গত ছয় মাসে, বিসিবি এর বর্তমান ব্যাংকিং অংশীদারদের কাছ থেকে প্রায় ১২ কোটি টাকা পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছে। আরও প্রায় ২০ কোটি টাকার পৃষ্ঠপোষক বিনিয়োগ অবকাঠামো উন্নয়নে প্রতিশ্রুত হয়েছে, যা এই আর্থিক সম্পর্কের গভীরতা ও দৃঢ়তা প্রমাণ করে।’
বিসিবি আর্থিক শৃঙ্খলা ও সুশাসনের সর্বোচ্চ মান বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং যথাযথ ও তথ্যভিত্তিক সূত্র থেকে আসা তদন্তকে স্বাগত জানায়। একই সঙ্গে, বোর্ড গণমাধ্যমকে অনুরোধ করছে যেন তারা ভিত্তিহীন প্রতিবেদন প্রকাশ থেকে বিরত থাকে, যা বাংলাদেশ ক্রিকেট এবং এর সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করতে পারে।’
২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর পদত্যাগ করেন বিসিবির সাবেক সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। নতুন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন ফারুক আহমেদ।
নাজমুল হাসান পাপন দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় বিসিবির দায়িত্ব পালন করেন দেশের ক্রিকেটের তেমন কোন উল্লেখ করার মতো উন্নতি করতে না পারলেও এতো বড় আর্থিক লেনদেনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেনি।ফারুক দায়িত্বে এসে যদি নিরাপত্তা ও সুদের হার বেশি পাওয়ার জন্য অন্য ব্যাংকে টাকা স্থানান্তর করে থাকেন এমন সত্য উদ্দেশ্য থাকলে তিনি কেন তখন গণমাধ্যমকে অবগত করলেন না। বরং তিনি গণমাধ্যমকে দোষারোপ করছেন যা যুক্তিসংঙ্গত নই।