শিরোনাম :
চাঁপাইনবাবগঞ্জে টাকা ও স্বর্ণালংকার চুরি, গ্রেফতার ৫ পঞ্চগড়ের বোদা সদর হাসপাতাল পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভায় রাস্তা নির্মাণ কাজের উদ্বোধন বোদা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৪০০ (চারশত) পিচ অবৈধ মাদকদ্রব্য ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ ০১ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার। ছোট ভাইয়ের মরদেহ আনতে গিয়ে বড় ভাইয়ের মৃত্যু শেরপুরে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে স্কুলের রেজুলেশন খাতা ছিনতাইয়ের অভিযোগ আইপিএসের তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ইলেকট্রিক মিস্ত্রির মৃত্যু  গরিব অসহায়দের পল্লী চিকিৎসক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম। রানীশংকৈলে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত জিএমপি পূবাইল থানা পুলিশের অভিযানে সিআর ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী গ্রেফতার ১
রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ০৩:৩১ অপরাহ্ন

অবশেষে সংস্কার হচ্ছে ৭৫ বছর বেদখলে থাকা ঐতিহ্যবাহী  হরিপুর জমিদার বাড়ী

প্রতিনিধির নাম / ৭১৩ বার
আপডেট : শুক্রবার, ৪ আগস্ট, ২০২৩

 

অবশেষে সংস্কার হচ্ছে ৭৫ বছর বেদখলে থাকা ঐতিহ্যবাহী  হরিপুর জমিদার বাড়ী

মোঃখলিলুর রহমান খলিল

রক্ষণাবেক্ষনের অভাবে অস্তিত্ব হারাতে বসেছিল ইতিহাস ঐতিহ্যর অংশ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার  নাসিরনগরের হরিপুর জমিদার বাড়ি। ৭৫ বছর ধরে বেদখলে ছিল বিশালাকার বাড়িটি।

অবশেষে  হরিপুর বড় বাড়ি সংরক্ষণে উদ্যোগ নিয়েছে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ। ইতিমধ্যে অবৈধ দখল উচ্ছেদে করা হয়েছে।  দ্রুততম সময়ে  সংস্কারের কাজে হাত দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

১৮শ শতাব্দীতে জেলার নাসিরনগর উপজেলায় তিতাস নদীর পাড়ে প্রায় ৪৮০ শতাংশ জমিতে জমিদার কৃষ্ণপ্রদাস রায় চৌধুরী ও গৌরীপ্রসাদ রায় চৌধুরী দৃষ্টিনন্দন এ বাড়িটি নির্মাণ করেন।

জানা যায়, ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের  পর জমিদার পরিবারের লোকজন বাড়িটিতে কয়েকজন পুরোহিতদের রেখে কলকাতায় চলে যান।
এরপর পুরোহিতদের বংশধরদের পাশাপাশি স্থানীয় কিছু মুসলিম পরিবার দখল নিয়ে বসবাস শুরু করেন সেখানে। সেই থেকে প্রায় ৭৫ বছর ধরে বাড়িটি ছিল বেদখলে। এতে বাড়িটি দিনের পর দিন বিলুপ্তির পথে যেতে থাকে। তবে সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বাড়িটির দখলে থাকা পরিবারগুলোকে অন্যত্র পুনর্বাসিত করা হয়। এরপরই নেওয়া হয় বাড়িটি সংস্কারের উদ্যোগ।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, তিতাসের পূর্বপ্রান্তে এত বড় বাড়ি আর কোথাও নেই। কারুকাজ খচিত ৬০টি কক্ষ বিশিষ্ট বাড়িটিতে রং মহল, দরবার হল, নাচ ঘর, পুকুর, খেলার মাঠ, মন্দির ও সীমানা প্রাচীর রয়েছে। তবে এর অনেক অংশ ভেঙে ফাটলও ধরেছে। লাল ইট সুরকির গাঁথুনি দিয়ে তৈরি ভবনের দু’পাশে কৃষ্ণ প্রসাদ রায় চৌধুরী ও গৌরী প্রসাদ রায় চৌধুরীর দুটি সমাধি সুউচ্চ মঠ রয়েছে। বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকরা এখানে এসে ঘুরে ঘুরে পুরো রাজবাড়ির সৌন্দর্য দেখছেন। অনেকে আবার  মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করছেন।

। এই বাড়িটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত ছিল। বাড়িটিতে বহিরাগত লোকেরা থাকতেন। তবে জেলা প্রশাসনের  উদ্যোগে দখলে থাকা বহিরাগতদের আশ্রয়ণ প্রকল্পে জায়গা দিয়ে তাদের উচ্ছেদ করা হয়।এলাকা বাসীর  দাবি, এই বাড়ি যেন পুনঃসংস্কার করে দেয়। তাহলে  তিতাসের পূর্ব পাড়ে অতীতের একটি স্মৃতি থাকবে।

দীর্ঘ কয়েক যুগ ধরে বাড়িটি পরিত্যক্ত। এই বাড়িটি চুনকাঠ ও বীমের উপর দাঁড়িয়ে আছে। যেকোনো সময় একটি বড়ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বাড়িটি সংস্কার করে দিলে দর্শনার্থীর সংখ্যা আরো বাড়বে, এলাকার উন্নয়ন হবে।

ঘুরতে আসা কয়েকজন পর্যটক বলেন, আমরা হরিপুর জমিদার বাড়ি দেখতে এসেছি। দেখলাম এখানে অনেক ঐতিহাসিক নিদর্শন রয়েছে। রাজমহল, রঙমহল, দরমহলসহ প্রতিটি দেওয়ালে বিভিন্ন প্রকার কারুকাজ করানো রয়েছে। বাড়িটি অনেক পুরোনো হওয়ায় জরাজীর্ণ হয়ে গেছে। যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে। তবে বাড়িটির ফটকের সামনে যদি এর ইতিহাস লিখে রাখা হয় তাহলে পর্যটকরা এসে এর সঠিক তথ্য জানতে পারবে। বাড়িটি যদি দ্রুত সংস্কার করা যায় তাহলে ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম দেখতে পারবে।

জেলা প্রশাসক মো. শাহগীর আলম বলেন, হরিপুর জমিদার একটি দর্শনীয় স্থান। এটা প্রত্নতত্ত্বের একটা গুরুত্ব আছে। জমিদার বাড়িতে যেসব বহিরাগত পরিবার ছিল তাদের আশ্রয়ণ প্রকল্পে জায়গা দিয়ে ওখানে স্থানান্তর করা হয়েছে। এর মধ্যে হিন্দু ব্রাহ্মণ পরিবার ছিল তারা নিজেরাই চলে গেছেন।

বাড়িটি সংস্কারের বিষয়ে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের মহাপরিচালক চন্দন কুমার দে বলেন, আমাদের যে সরকারি রাজস্ব ফান্ড আছে তা থেকে এই বছরই আমরা বাড়িটির সংস্কার কাজ শুরু করব। আমরা প্রকল্প তৈরির চেষ্টা করছি। খুব দ্রুত প্রকল্পটা আমাদের মন্ত্রণালয়ে আমরা পাঠিয়ে দেব। আসা করছি প্রকল্পটা অনুমোদন হলে একটা বড় আকারের কাজ করতে পারব। বাড়িটি যেভাবে আছে আমরা ঠিক সেই ভাবে রেখেই সংস্কার কাজ করব।

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালেদ বলেন, প্রত্নতাত্ত্বিক সংরক্ষার একটি আইন বা ব্যবস্থা আছে যা সারা বিশ্বে একই নিয়ম। সেভাবেই আমরা এটি সংস্কার করবো

Facebook Comments Box


এ জাতীয় আরো সংবাদ